বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসিসি) আজ ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম, যা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, তে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের জন্য ২৬টি দেশ এবং সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসিসি জানিয়েছে, আমন্ত্রিত দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের মোট সংখ্যা ৮৩ জন, যাদের জন্য বাসস্থান ও খাবারের সব ব্যয় কমিশন বহন করবে। এ ধরনের সম্পূর্ণ আর্থিক সহায়তা প্রথমবারের মতো প্রদান করা হচ্ছে, যা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাজকে সহজতর করবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসিসি উল্লেখ করেছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা জোরদার করা হবে।
অতীত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এইবারের পর্যবেক্ষক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসিসি কর্মকর্তারা জানান, পূর্বের নির্বাচনে যেসব সংখ্যক পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করেছিল, তার তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ বেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে তারা কমপক্ষে ১৭৫ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। ইইউ প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, তারা নির্বাচনের প্রতিটি ধাপের ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)ও ১০ সদস্যের একটি দল পাঠাবে। আইআরআই দলটি নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি, ভোটদান এবং ফলাফল ঘোষণার পর্যবেক্ষণে অংশ নেবে, এবং তাদের রিপোর্ট ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সংস্কারের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করবে।
একই সময়ে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি দেশীয় ও বৈদেশিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে। পর্যবেক্ষক দলগুলোর রিপোর্ট ও সুপারিশ ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়ার উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসিসি উল্লেখ করেছে, পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে যে ভোটদান, গোপনীয়তা এবং ফলাফল গণনা সবই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হবে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই পর্যবেক্ষক আমন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে চাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।



