বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ১১ জানুয়ারি বগুড়া শহরে সফর করবেন এবং পরের দিন রংপুরে যাবেন, এটা বগুড়া জেলা কমিটির এক সভায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য হল পার্টির কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং বগুড়া ও রংপুরের সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা।
সোমবার সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা কমিটির উদ্যোগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে চেয়ারপার্সন ১১ জানুয়ারি বিকালে বগুড়া পৌঁছাবেন। এই সিদ্ধান্তটি বিএনপি মিডিয়া সেলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ক কালাম আজাদ জানান।
বৈঠকে বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, পাশাপাশি উপজেলা ও পৌর স্তরের নেতাদের উপস্থিতি ছিল। সকল উপস্থিতি একত্রে সফরের বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্থানীয় পার্টি কাঠামোর সমর্থন নিশ্চিত করেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারেক রহমানের বগুড়া সফরের পরপরই বেগম খালেদা জিয়ার জন্য গণ দোয়া আয়োজন করা হবে। দোয়ার স্থান হিসেবে বগুড়া জিলা স্কুলের মাঠ অথবা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ উল্লেখ করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি।
দোয়া সমাপ্তির পর চেয়ারপার্সন রংপুরে রওনা হবেন। রংপুরে তার সফরের সময় তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় শহীদ তিনজনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার পরিকল্পনা করেছেন।
বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং পার্টির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আকী আজগর হেনা উভয়ই উল্লেখ করেছেন যে, বগুড়ার মানুষ ১৮ বছর পর তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এই মন্তব্যগুলো পার্টির ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিত দেয়।
সফরের জন্য পর্যটন মোটেল, সার্কিট হাউস এবং সূত্রাপুরে একটি বাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। তবে চেয়ারপার্সন রাত কোথায় থাকবেন তা এখনও প্রকাশিত হয়নি। লজিস্টিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে সফরটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে পারে।
রংপুরে তারেক রহমানের সফরের সময় তিনি শহীদ পরিবারের সঙ্গে আর্থিক অনুদান প্রদান এবং উপহার বিনিময় করবেন, যা পার্টির সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই উদ্যোগটি স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে পার্টির ইতিবাচক চিত্র গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এই সফরটি উত্তরের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিএনপির উপস্থিতি দৃঢ় করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে পার্টি নেতাদের সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের বগুড়া ও রংপুর সফর পার্টির সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার, সমর্থকদের সঙ্গে সংলাপ স্থাপনের এবং সামাজিক দায়িত্বের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত। এই পরিকল্পনা বগুড়া ও রংপুরের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক উন্মোচন করবে।



