জন মায়ার এবং চলচ্চিত্র পরিচালক‑প্রযোজক ম্যাকজি একসাথে লস এঞ্জেলেসের ঐতিহাসিক স্টুডিও লটের নাম পরিবর্তন করে “চ্যাপলিন স্টুডিওস” ঘোষণা করেছেন। এই লটটি প্রায় এক বছর আগে দুজনের যৌথ মালিকানায় এসেছে এবং আগে জিম হেনসন কোম্পানি ও এন্ডি রেকর্ডসের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন নামকরণে তারা ১৯১৭ সালে চার্লি চ্যাপলিনের উৎপাদন স্টুডিও হিসেবে শুরু হওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছেন।
লটটি লস এঞ্জেলেসের সানসেট বুলেভার্ড ও লা ব্রিয়া এভিনিউয়ের সংযোগস্থলের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত, মোট ৮০,০০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে। ১৯১৭ সালে চ্যাপলিনের চলচ্চিত্র নির্মাণের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই স্থানটি পরবর্তীতে ১৯৫০‑৬০ দশকে “দ্য রেড স্কেল্টন শো”, “দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অফ সুপারম্যান” এবং “পেরি মেসন” সহ বহু টেলিভিশন শোয়ের শ্যুটিং লোকেশন হয়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালে হার্ব আলপার্ট ও জেরি মস এই লটটি কিনে এন্ডি রেকর্ডসের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন, যা সঙ্গীত শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
মায়ার এই পরিবর্তনকে তরুণ সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি ২০-এর দশকের সঙ্গীতশিল্পীরা চ্যাপলিন নামে একটি জায়গা পায়, যদিও তারা সরাসরি সংযোগ না জানে, তবু তা তাদের সৃজনশীলতাকে উজ্জীবিত করতে পারে।” তিনি লটের নামের শব্দের সুর ও চিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বলেন, “এটি ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানায়, তবে একই সঙ্গে নতুন কিছু গড়ে তোলার সুযোগ দেয়।”
মায়ার নিজে দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেটফুল ডেডের উত্তরসূরি ডেড অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে ট্যুর করে আসছেন, তাই তিনি ব্র্যান্ডের ঐতিহ্য বজায় রাখার দায়িত্বকে ভালভাবে বুঝতে পারেন। তিনি নিজের ভূমিকাকে “ডেড অ্যান্ড কোম্পানির মতোই একটি সেতু” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা পুরনো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে স্টুডিও লটের পুনঃনামকরণে ঐতিহাসিক সংযোগ বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
লটের নতুন নামকরণে মায়ার ও ম্যাকজি উভয়েই অতীতের প্রতি সম্মান ও ভবিষ্যতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে মিশ্রিত করার চেষ্টা করছেন। তারা উল্লেখ করেন, “চ্যাপলিনের নামের অক্ষরগুলো এবং তার সাউন্ড আমাদেরকে অতীতের সঙ্গে সংযুক্ত করে, তবে একই সঙ্গে আমরা নিজস্ব সৃষ্টিশীলতা যোগ করে একটি নতুন পরিচয় গড়ে তুলতে পারি।” এই দৃষ্টিভঙ্গি স্টুডিওকে শুধুমাত্র একটি শুটিং স্পেস নয়, বরং সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রের উভয় ক্ষেত্রের জন্য একটি সাংস্কৃতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
স্টুডিও লটের পুনঃনামকরণে স্থানীয় শিল্পী ও সৃজনশীল সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক হয়েছে। অনেক তরুণ সঙ্গীতশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এই ঐতিহাসিক স্থানে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বসিত। মায়ার ও ম্যাকজি উভয়েই ভবিষ্যতে এখানে নতুন প্রকল্পের সূচনা, কর্মশালা এবং সৃজনশীল ইভেন্টের পরিকল্পনা করছেন, যা লটকে একটি সক্রিয় সৃজনশীল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।
চ্যাপলিন স্টুডিওসের নতুন পরিচয় লস এঞ্জেলেসের সৃজনশীল দৃশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে, একই সঙ্গে আধুনিক শিল্পীদের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করার এই উদ্যোগটি ভবিষ্যতে আরও বেশি সৃজনশীল কাজের জন্ম দিতে পারে।



