ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার লন্ডনে সাংবাদিকদের সামনে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রেরই বলে জোর দিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই বিষয়টি সহজ নয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জটিলতা বজায় রয়েছে।
স্টারমার বলেন, ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরই এখনো তাদের মূল লক্ষ্য। এই অবস্থান তিনি পূর্বের সপ্তাহান্তেও প্রকাশ করেছিলেন এবং তা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কোনো বাহ্যিক শক্তির হস্তক্ষেপের পরিবর্তে দেশীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইনই সেই মানদণ্ড যার ভিত্তিতে সব সরকারী কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে, তার ব্যাখ্যা দেওয়া এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে উপস্থাপন করা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব দায়িত্ব। তিনি স্বীকার করেন যে এই ব্যাখ্যা সহজ নয়, কারণ পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তনশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় একটি আক্রমণ চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে। এই অপারেশনটি চলচ্চিত্রের মতো দৃশ্যপট নিয়ে পরিচালিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গ্রেপ্তারের পর দুজনকে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
সোমবার মাদুরো ও ফ্লোরেসকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে উপস্থিত করা হয়। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্টারমার এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করে বলেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বৈধতা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তার পদক্ষেপের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানান, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
ব্রিটেনের সরকার ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে, তবে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের সমর্থন করেনি। স্টারমার উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা না থাকলে আন্তর্জাতিক সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়বে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা না দিলে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের ফাঁক বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে যৌথ নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় নতুন রাজনৈতিক গঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে।
স্টারমার শেষ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা দেওয়া সহজ কাজ নয়, তবে তা না করলে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান হ্রাস পাবে। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সকল দেশের কর্মকাণ্ডের ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান।
এই বিবৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পরিণতি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিপথকে পুনর্গঠন করতে পারে, পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোতে সমাধান খোঁজা হবে মূল চাবিকাঠি।



