সোমবার সকাল, রাজধানীর আগারগাঁওতে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতা কর্মশালার প্রধান অতিথি ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন উল্লেখ করেন, গণভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শাসনের সম্ভাবনা নির্মূল করা সম্ভব হবে। এই কর্মশালাটি গণভোটের গুরুত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।
ড. খালিদ হোসেনের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একবার ক্ষমতায় বসে থাকা নেতারা নানা কৌশল ও চালচলনের মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছেন, যা গত ৫৪ বছরের মধ্যে একাধিকবার ঘটেছে। তিনি জোর দেন, গণভোটের ফলাফল যদি হ্যাঁ হয়, তবে এই ধরণের ক্ষমতার সংহতি ভাঙা যাবে।
উল্লেখ করা হয়, গণভোটের ফলাফল সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারি কর্মকমিশনের গঠন প্রক্রিয়ায় বিরোধী ও সমর্থক দল দুজনেরই সমন্বিত কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ধরনের সহযোগিতা দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করলে জাতি ও দেশের সামগ্রিক মঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে। তিনি ফাউন্ডেশনকে অধিদফতরে রূপান্তরের পরিকল্পনা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ, মনির হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. মো. আব্দুর রশীদ এবং ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন।
অধ্যাপক আলী রিয়াজের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোট আসে, তবে ভবিষ্যতে হ্যাসিনার মতো কোনো ফ্যাসিস্ট নেতা উদ্ভবের সম্ভাবনা কমে যাবে। তিনি বলেন, পরবর্তী পঞ্চাশ বছর দেশের দিকনির্দেশনা গণভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল হবে।
অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ইমাম ও মসজিদ পরিচালকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন, গণভোটের ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমামগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
কর্মশালায় দেশব্যাপী চার শতাধিক বিশিষ্ট আলেম-ওলামা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা গণভোটের প্রক্রিয়া, এর আইনি কাঠামো এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
সমগ্র আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল গণভোটকে দেশের শাসনব্যবস্থার একটি বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা এবং এর মাধ্যমে স্বৈরাচারী প্রবণতা দমন করা। উপস্থিত সকল পক্ষের মতামত থেকে স্পষ্ট হয়, গণভোটের সফল বাস্তবায়ন দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই কর্মশালার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন অধিদফতরে রূপান্তরের প্রস্তাবনা সরকারকে উপস্থাপন করা হবে এবং গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



