ঢাকা: সরকার আজ টেলিকম ও পোস্ট বিভাগে গত পনেরো বছরে সঞ্চিত দুর্নীতি, অনিয়ম এবং কাঠামোগত ত্রুটির বিশদ বিশ্লেষণসহ একটি হোয়াইট পেপার প্রকাশ করেছে। এই নথি প্রকাশের মাধ্যমে সরকার টেলিকম সেক্টরের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপন করেছে।
হোয়াইট পেপারটি এপ্রিল прошлого বছর গঠিত একটি টাস্ক ফোর্সের কাজের ফলাফল, যা প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে পোস্ট ও টেলিকম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিল। বহু মাসের তদন্ত ও বিশ্লেষণের পর টাস্ক ফোর্স চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারকে উপস্থাপন করে, যা আজ সরকারি বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়েছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পোস্ট ও টেলিকম বিভাগে গত দশ বছর ও অর্ধেকের মধ্যে সিস্টেমিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগত ঘাটতি ব্যাপকভাবে বিদ্যমান ছিল। এসব ঘাটতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুন্ন করেছে, বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিকৃত করেছে এবং জনসম্পদ অপচয় ঘটিয়েছে।
হোয়াইট পেপারটি ৭ সদস্যের একটি কমিটি দ্বারা প্রস্তুত, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কামরুল হাসান আছেন। কমিটি টেলিকম সেক্টরের কাঠামোগত অমিল, কার্যকরী দুর্বলতা এবং সামগ্রিক ব্যর্থতার একটি গম্ভীর চিত্র অঙ্কন করেছে। এছাড়া, নথিতে ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ভালো শাসন নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, হোয়াইট পেপারে উল্লিখিত ফলাফল ও সুপারিশগুলো প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার, দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং টেলিকম সেবাকে নাগরিক-বান্ধব করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের সংস্কার যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে টেলিকম সেক্টরের নিয়ন্ত্রক কাঠামো পুনর্গঠন, বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জনসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
হোয়াইট পেপারটি উল্লেখ করেছে যে, টেলিকম সেক্টরের বর্তমান অবস্থা একটি গভীর কাঠামোগত সমস্যার ফল, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং বাজারে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সংশোধনের জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী নীতি পরিবর্তন এবং তদারকি ব্যবস্থার পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে জোর দিয়েছে।
প্রতিবেদনটি টেলিকম শিল্পের বিভিন্ন অংশীদার, যেমন সেবা প্রদানকারী, ভোক্তা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়লে সেক্টরে আস্থা পুনরুদ্ধার হবে, যা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন, যদিও বাস্তবায়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা পরীক্ষা হবে। ভবিষ্যতে হোয়াইট পেপারের সুপারিশের ভিত্তিতে গৃহীত নীতি ও আইনগত পরিবর্তনগুলো টেলিকম সেক্টরের কাঠামোকে কীভাবে রূপান্তরিত করবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
হোয়াইট পেপার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং সুপারিশকৃত সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে। এই উদ্যোগের সফলতা টেলিকম সেক্টরের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব এবং নাগরিকদের সেবা গুণমানের উন্নয়নে নির্ধারক হবে।



