ঢাকা বিশেষ বিচারক আদালত-৯-এ আজ শি.হাসিনা এবং ২৮৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত সেডিশন মামলায় চার্জ ফ্রেমিং শোনার তারিখ জানানো হয়েছে। বিচারক মো. আবদুস সালাম ২১ জানুয়ারি শোনার তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দেন। মামলাটি ২৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) দ্বারা দাখিল করা হয়, যেখানে শি.হাসিনা এবং ৭২ জনকে মধ্যবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।
আজকের শুনানিতে আদালতে ২৮ জন অভিযুক্ত উপস্থিত হন, যার মধ্যে প্রাক্তন আওয়ামী লীগ আইনসভার সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনও অন্তর্ভুক্ত। সকল অভিযুক্ত বর্তমানে জেলায় আটক অবস্থায় আছেন। আদালতে উপস্থিতদের তালিকা ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সিআইডি ১৪ আগস্ট একটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে, যেখানে শি.হাসিনা এবং ২৮৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা “জয় বাংলা ব্রিগেড” নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করে শি.হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে। ঐ সভায় দেশীয় ও বিদেশী মোট ৫৭৭ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন এবং শি.হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সেই অনলাইন সভার আয়োজনকারী রাবি আলম, যিনি আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সহ-সভাপতি, দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। রাবি আলমের ভূমিকা ও তার সংযোগের বিশদ তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে আদালতে তার উপস্থিতি বা মন্তব্যের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
মামলাটির মূল অভিযোগের ভিত্তি হল শি.হাসিনার নেতৃত্বে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করা। সিআইডি অনুসারে, এই পরিকল্পনা গৃহযুদ্ধের সূচনা, সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন এবং জনমতকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্য ছিল। তবে এখন পর্যন্ত এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বা কোনো সশস্ত্র কার্যক্রমের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়নি।
এই শোনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আদালত চার্জ ফ্রেমিং শোনার সময়সীমা নির্ধারণের পর, মামলাটির মূল বিষয়বস্তু ও প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায়ের দিকে অগ্রসর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিচারক মো. আবদুস সালাম শোনার সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি, অভিযুক্তদের আইনগত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন।
মামলাটির রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। শি.হাসিনার বিরোধীরা এই মামলাকে সরকারের বিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আর শি.হাসিনার সমর্থকরা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যযুক্ত দমনমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করছেন। উভয় পক্ষই আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে। এই তথ্যটি মূল সেডিশন মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে আন্তর্জাতিক সংবাদে উল্লেখিত হয়েছে।
সেডিশন মামলায় শি.হাসিনা ও অন্যান্য অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের আইনি ও রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে, যদি আদালত শি.হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর রায় দেয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, যদি রায়ে শি.হাসিনার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ পায়, তবে সরকার ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস পেতে পারে।
মামলাটির পরবর্তী শোনার তারিখ ও রায়ের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে। বর্তমানে, আদালতে শোনার নির্ধারিত তারিখের অপেক্ষায় উভয় পক্ষই তাদের আইনি কৌশল প্রস্তুত করছে।



