অ্যামাজন তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী অ্যালেক্সা+ এর নতুন ওয়েব সংস্করণ চালু করেছে। এই সেবা এখন Alexa.com সাইটের মাধ্যমে যেকোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে ব্যবহার করা যাবে। প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র অ্যালেক্সা+ এর অল্প সময়ের জন্য নিবন্ধিত ব্যবহারকারীদের জন্যই এই সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে ডেডিকেটেড হার্ডওয়্যার ছাড়াই ব্যবহারকারীরা প্রশ্নের উত্তর, স্মার্ট হোম নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য কাজের জন্য অ্যালেক্সা+ এর সাহায্য নিতে পারবেন।
ওয়েব ক্লায়েন্টের কাজের পদ্ধতি পূর্বের অ্যালেক্সা+ এর মতোই, যা ইকো ডিভাইস, ফায়ার টিভি এবং ফায়ার ট্যাবলেটে উপলব্ধ। তবে ডিভাইস ক্রয় না করেও এখন ব্রাউজারেই একই ফিচারগুলো ব্যবহার করা সম্ভব। ব্যবহারকারীরা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া, রিমাইন্ডার সেট করা, মিউজিক চালানো ইত্যাদি মৌলিক কাজের পাশাপাশি জটিল কাজও সম্পন্ন করতে পারবেন। এই পরিবর্তনটি অ্যালেক্সা+ এর ব্যবহারিকতা বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ওয়েব সংস্করণে ব্যবহারকারীর প্রিয় ফিচারগুলোকে এক পাশে রাখার জন্য একটি ন্যাভিগেশন সাইডবার যুক্ত করা হয়েছে। এই সাইডবারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কমান্ড ও টুলগুলো দ্রুত অ্যাক্সেস করা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীকে বারবার মেনু অনুসন্ধান করতে হবে না, এক ক্লিকেই প্রয়োজনীয় ফাংশনে পৌঁছাতে পারবেন। এই ডিজাইনটি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সহজতর করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।
অ্যামাজন সম্প্রতি অ্যালেক্সা মোবাইল অ্যাপের ইন্টারফেস ও পারফরম্যান্সে আপডেট এনেছে। একই সঙ্গে রিং ডোরবেল এবং বিএমডব্লিউ গাড়ির সঙ্গে অ্যালেক্সা+ এর সংযোগ বাড়ানো হয়েছে। এই সংযোজনগুলো অ্যালেক্সা+ কে বাড়ি ও গাড়ি উভয় পরিবেশে আরও কার্যকর করে তুলেছে। ওয়েব ব্রাউজারে সেবা যোগ করা মানে এখন ডেস্কটপ, ল্যাপটপ এবং ট্যাবলেট থেকে একই অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।
ব্রাউজার ভিত্তিক কৃত্রিম সহকারী বাজারে বর্তমানে ওপেনএআই এর চ্যাটজিপিটি এবং গুগল জেমিনি প্রধান প্রতিযোগী। অ্যালেক্সা+ এর ওয়েব সংস্করণ এই দুই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে। অ্যামাজন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দের বিকল্প বাড়িয়ে নিজের ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে চায়। বাজার বিশ্লেষকরা এই চালুয়াতকে ক্লাউড ভিত্তিক AI সেবার ক্ষেত্রে নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা হিসেবে দেখছেন।
সেবা ব্যবহার করতে হলে প্রথমে অ্যালেক্সা+ এর অर्लি এক্সেস প্রোগ্রামে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারী তার অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট দিয়ে Alexa.com এ লগইন করে ওয়েব ক্লায়েন্টে প্রবেশ করতে পারবেন। লগইন করার পরই ব্যবহারকারী তার পছন্দের ভাষা, ভয়েস সেটিং এবং স্মার্ট ডিভাইসের সংযোগ কনফিগার করতে পারবে। এই প্রক্রিয়াটি পূর্বের ডিভাইস-ভিত্তিক সেটআপের তুলনায় সহজ এবং দ্রুত সম্পন্ন হয়।
অ্যামাজন বর্তমানে অল্প সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য এই সেবা সীমিতভাবে চালু করেছে, তবে ভবিষ্যতে সব অ্যামাজন গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যালেক্সা+ এর ওয়েব সংস্করণে অতিরিক্ত ফিচার যোগ করার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন ডকুমেন্ট এডিটিং সহায়তা এবং রিয়েল-টাইম ট্রান্সলেশন। এই ধরনের আপডেট ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজকে আরও স্বয়ংক্রিয় ও দক্ষ করে তুলবে। তাই অ্যালেক্সা+ এর ওয়েব উপস্থিতি প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ব্রাউজার-ভিত্তিক অ্যালেক্সা+ এর প্রধান সুবিধা হল হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা না থাকা। যেকোনো পাবলিক কম্পিউটার, ক্যাফে বা লাইব্রেরি থেকে লগইন করে একই সেবা ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার এবং ছোট ব্যবসার মালিকরা অতিরিক্ত ডিভাইস কেনার ঝামেলা ছাড়াই AI সহায়তা পেতে পারবেন। এই নমনীয়তা অ্যালেক্সা+ কে আরও বিস্তৃত ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
সারসংক্ষেপে, অ্যালেক্সা+ এর ওয়েব সংস্করণ অ্যামাজনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষেবাকে নতুন স্তরে নিয়ে গেছে। ডেডিকেটেড ডিভাইসের প্রয়োজন না থাকায় ব্যবহারকারীর প্রবেশের বাধা কমে গেছে এবং বিভিন্ন কাজের জন্য একাধিক প্ল্যাটফর্মে সেবা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সেবা আরও বিস্তৃত ফিচার এবং বৃহত্তর ব্যবহারকারী ভিত্তি অর্জন করতে পারে, যা দৈনন্দিন জীবনে AI সহায়তার ভূমিকা বাড়িয়ে তুলবে।



