শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আয়োজন করা মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতের টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে যথাযথ ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তিনি দেশের মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস করা যাবে না জোর দিয়ে বলেন।
অনুষ্ঠানটি ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী হলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উচ্চপদস্থ পার্টি নেতারা ও সমর্থকগণ সমবেত ছিলেন। আমিনুল হক উপস্থিতিতে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। প্রার্থনা সমাপ্তির পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত আলাপের জন্য সময় দেন।
আলাপের সময় তিনি পুনরায় জোর দেন যে দেশের স্বার্থ ও সম্মান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশকে বিবেচনা করে তিনি বলেন, ভারতীয় মাটিতে দল পাঠালে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে, তাই বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়া যুক্তিসঙ্গত। তিনি এই সিদ্ধান্তকে দেশের গৌরব রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
বিএনসির প্রস্তাবিত বিকল্প ভেন্যু নিয়ে তিনি শ্রীলঙ্কা উল্লেখ করেন, যেখানে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন। শ্রীলঙ্কা যদি হোস্ট দেশ হিসেবে স্বীকৃত হয়, তবে বাংলাদেশ দল সেখানে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে এই বিকল্পটি গম্ভীরভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
আইপিএল সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি দ্রুতগতি পেয়েছেন, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের স্পিনার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে নিরাপত্তা অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মুস্তাফিজুরের মতো খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে অপসারণ করা মানে ভারতীয় মাটিতে আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তটি পুরো দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পুরো দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব, এ কথায় তিনি জোর দেন। নিরাপত্তাহীনতার এই কারণেই বাংলাদেশ বিকল্প দেশের প্রস্তাবকে সমর্থন করছে, যাতে দল নিরাপদ পরিবেশে প্রতিযোগিতা করতে পারে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বকাপের স্থানান্তরকে অপরিহার্য বলে বিবেচনা করেন।
বিসিবি আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিরাপত্তা উদ্বেগের সাথে যুক্ত, তিনি উল্লেখ করেন। এই পদক্ষেপটি ভারতীয় ক্রিকেট ইভেন্টের প্রতি দেশের সামগ্রিক সতর্কতা প্রকাশ করে। নিরাপত্তা বিষয়ক এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপের বিকল্প স্থানের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশ তার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে শ্রীলঙ্কা প্রস্তাবের দিকে মনোযোগ দিতে এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান। নিরাপদ ভেন্যু নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ দল পুনরায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেবে।
এই মন্তব্যগুলো উচ্চপদস্থ পার্টি নেতাদের উপস্থিতিতে এবং মিডিয়ার নজরে প্রকাশিত হয়, যা ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানকে রাজনৈতিক সমর্থন প্রদান করে। অনুষ্ঠানটি দেশের মঙ্গল ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করে সমাপ্ত হয়।



