চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানার হাজারিগলি মিয়া শপিং মার্কেটের জয়রাম ট্রেডার্সে স্বর্ণকারিগর হিসেবে কর্মরত সবুজ দেবনাথ এবং সহকর্মী বিভাস রায়, পিন্টু ধর রোববার ভোর প্রায় ৫:৩০ টায় সিএনজি গাড়ি চালিয়ে কোতয়ালী থানার সাব‑এরিয়ার থেকে সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারী দিকে যাত্রা করছিলেন।
তারা তাদের জুতার (কেডস) মধ্যে ৩৫টি স্বর্ণের বার লুকিয়ে রেখেছিলেন, যার মোট ওজন ৩৫০ ভরি এবং আনুমানিক মূল্য সাত কোটি টাকার কাছাকাছি।
গন্তব্যের পথে আতুরার ডিপো এলাকায় দুইটি মোটরসাইকেল চালিয়ে চারজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের গতি থামিয়ে নিলেন।
অপরাধীরা পিস্তল ও ছুরির হুমকি দিয়ে সবুজ, বিভাস ও পিন্টুকে বাধা দিয়ে মোবাইল ফোন এবং লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বারগুলো জোরপূর্বক নিলেন।
সেই মুহূর্তে গাড়ি থেমে গিয়েছিল, এবং অপরাধীরা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশের জানামতে, এই চুরি ঘটার আগে গত রোববার রাতে একই গোষ্ঠী অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সোনার চুরি করার অভিযোগ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী সবুজ দেবনাথ জানান, তিনি কোতয়ালী থানার হাজারিগলি মিয়া শপিং মার্কেটের জয়রাম ট্রেডার্সে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করতেন এবং একই প্রতিষ্ঠানে বিভাস রায় ও পিন্টু ধরসহ তিনজন একসাথে কাজ করতেন।
অপরাধের সময় তারা সিএনজি গাড়ি চালিয়ে কোতয়ালী থানার সাব‑এরিয়ার থেকে সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারীর দিকে যাচ্ছিলেন, যখন আতুরার ডিপো এলাকায় দুইটি মোটরসাইকেল এসে তাদের গতি থামিয়ে নিল।
পিস্তল ও ছুরির হুমকি দিয়ে তারা মোবাইল ফোন এবং ৩৫০ ভরির স্বর্ণের বারগুলো জোরপূর্বক নিল এবং দ্রুত গাড়ি চালিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. আবদুল করিম মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানান, স্বর্ণ চুরির ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ বর্তমানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের মতে, চুরি করা স্বর্ণের মোট ওজন ৩৫০ ভরি, যা প্রায় সাত কোটি টাকার সমান, এবং চুরি করা জিনিসপত্রের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে।
অধিক তদন্তে সন্দেহভাজনদের গাড়ি, মোবাইল ফোন এবং চুরি করা স্বর্ণের বারগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে বলে ওসি উল্লেখ করেন।
সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বর্ণ ব্যবসার সুনাম রক্ষার জন্য পুলিশ সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের চুরি রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায়, চুরি করা স্বর্ণের পুনরুদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতার সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।



