সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল কাউন্সিল ৫ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত নেয়, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সকল সম্পদ অবিলম্বে জব্দ করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সরকার উল্লেখ করেছে, দেশের বাইরে সম্পদের বহির্গমন রোধ করা।
সুইস কর্তৃপক্ষের মতে, মাদুরো ও তার নেটওয়ার্কের আর্থিক সম্পদ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় লুকিয়ে থাকতে পারে, যা ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই, সম্পদ জব্দের মাধ্যমে কোনো অবৈধ তহবিলের প্রবাহ বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা নিশ্চিত করা হবে।
একই দিনে, নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে অবস্থিত একটি আটককেন্দ্র থেকে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এই স্থানান্তরটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাদুরো এবং তার স্ত্রীর এই হঠাৎ স্থানান্তরের পেছনে রয়েছে গত শনিবার রাতের গভীর সময়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর এই অভিযানটি মাদুরো এবং সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে চালানো হয় এবং তারা সরাসরি নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যও প্রকাশ পায়। ট্রাম্প মাদুরোর শাসনকালে ভেনেজুয়েলা যে অবনতি দেখেছিল, তা উল্লেখ করে বলেন, দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাওয়া রোধে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া একমাত্র সমাধান। তার এই বক্তব্যে মাদুরোর শাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ন্যায়সঙ্গততা তুলে ধরা হয়েছে।
সুইস সরকারের সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক পদক্ষেপ উভয়ই মাদুরো শাসনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সুইস কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য সম্পদের প্রবাহ বন্ধ করা হলেও, এটি ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও উন্মোচিত করতে পারে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদুরোর উপস্থিতি তার বিরুদ্ধে আর্থিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত মামলাকে ত্বরান্বিত করবে।
ভবিষ্যতে, সুইস কর্তৃপক্ষের সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া কীভাবে চালু হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে কী রকম রায় দেওয়া হবে, তা ভেনেজুয়েলা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে। যদি সম্পদ জব্দ কার্যকর হয়, তবে মাদুরোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে শাসন বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক প্রক্রিয়া মাদুরোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি দায়িত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই দুই ধাপই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।



