ঢাকা শহরের কদমতলী থানা ইউনিটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য মোঃ ওয়াসিম আহমেদ, বয়স চল্লিশ, ধাতু স্ক্র্যাপের দোকান চালান। গতকাল প্রাতঃকালীন প্রায় পাঁচটায় তার বাড়িতে অজানা কয়েকজন ব্যক্তি ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) পুলিশের ছদ্মবেশে হাজির হয়ে তাকে নিয়ে যায়।
ওয়াসিমের স্ত্রী শারমিন আক্তার তুম্পা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই কদমতলী থানা স্টেশনে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন। তিনি জানান, বাড়িতে প্রবেশকারী লোকজন নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে ওয়াসিমকে নিয়ে গেছেন।
থানার অফিসার ইন চার্জ শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, জিডি অনুযায়ী পাঁচ থেকে ছয়জন অপরিচিত ব্যক্তি রজাবারী আলি বাহার এলাকায় ওয়াসিমের বাড়িতে উপস্থিত হন। তারা ডিবি ইউনিফর্ম পরিধান করে এবং অফিসিয়াল পরিচয়পত্র দেখিয়ে ওয়াসিমকে তৎক্ষণাৎ বের করে নেয়।
পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি ডিবি অফিস, নিকটস্থ থানা এবং আত্মীয়দের বাড়িতে যোগাযোগ করে ওয়াসিমের অবস্থান জানার চেষ্টা করেন, তবে কোনো সাড়া পাননি। তুম্পা বলেন, তারা ফোন, এসএমএস এবং সরাসরি গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো ফলাফল অর্জন করতে পারেনি।
থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি রেকর্ড সংগ্রহ করেছে এবং বর্তমানে তা বিশ্লেষণাধীন। অফিসার আশরাফুজ্জামান উল্লেখ করেন, ভিডিও ফুটেজে উপস্থিত ব্যক্তিদের চেহারা ও গাড়ির নম্বর শনাক্ত করা হলে দ্রুত অনুসন্ধান চালু হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ওয়াসিমের পরিবারে কিছু অভ্যন্তরীণ বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই তথ্য এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব আরোপ করা হয়নি।
পুলিশের মতে, ডিবি ইউনিফর্ম পরিধানকারী ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন প্রয়োগকারী নয়; তাই তাদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে তদন্ত দল ডিবি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে ঘটনাস্থল ও আশেপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ডের তুলনা করছে।
অপরাধের প্রকৃতি ও সম্ভাব্য দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য থানা উচ্চতর পর্যায়ে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেবে। যদি অপরাধী সনাক্ত হয়, তবে ডিবি পুলিশ ভান করে গ্রেফতার করার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকন্তু, ওয়াসিমের অনুপস্থিতি নিয়ে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এনসিপি স্থানীয় শাখা এই ঘটনার দ্রুত সমাধান এবং ওয়াসিমের নিরাপদ ফিরে আসার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে। এই তথ্যটি স্থানীয় অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে সংবাদ সংস্থাগুলো একই সময়ে এই দুইটি বিষয়কে আলাদা আলাদা ভাবে রিপোর্ট করেছে।
বর্তমানে কদমতলী থানা তদন্তকে ত্বরান্বিত করার জন্য অতিরিক্ত মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চাচ্ছে। পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সব প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে কোনো অগ্রগতি বা আদালতে মামলার অগ্রগতি হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।



