ফ্লোরিডা রাজ্যের বাসিন্দা ডির্ক ফ্রেজিয়ার, দীর্ঘদিনের ট্রাম্প সমর্থক, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নেতৃস্থানীয় নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পরিকল্পনা ও দেশকে “চালানোর” প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তার মতামত প্রকাশ করেছেন। ফ্রেজিয়ার, যিনি এক সময় মার‑আ‑লাগোর প্রবেশদ্বারের সেতুতে সমর্থকদের জন্য হট ডগের স্টল চালাতেন, বলেন তিনি শৈশব থেকেই ইরাক ও আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পরিণতি দেখেছেন এবং এখন ভেনেজুয়েলা তার কাছে আরও কাছাকাছি বিষয়।
ফ্রেজিয়ার উল্লেখ করেন, ইরাক ও আফগানিস্তানের সংঘর্ষে হাজারো আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছে, লক্ষাধিক আহত হয়েছে এবং দেশের ভোটাররা সীমিত সাফল্যের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী জাতি-নির্মাণ মিশন থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মাদুরোকে দ্রুত ও কোনো আমেরিকান প্রাণহানি ছাড়াই অপসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা ফ্রেজিয়ার ও অন্যান্য সমর্থকদের কাছে পূর্বের “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ”‑এর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা হচ্ছে।
ফ্রেজিয়ার এই পদক্ষেপকে “শক্তির মাধ্যমে শান্তি”র উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা ট্রাম্পের বিদেশ নীতির মূল স্লোগান। তিনি বলেন, এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদী নয়, বরং সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর, ফলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রধান শক্তি হিসেবে তার অবস্থান পুনরুদ্ধার করছে এবং সম্ভাব্য শত্রুদের সতর্ক করছে।
মিয়ামির রাস্তায় ট্রাম্পের সমর্থকরা মাদুরোকে অপসারণের ফলে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। কিছুজনের মতামত, কিউবা ও নিকারাগুয়ার বামপন্থী শাসনগুলো এই পদক্ষেপের ফলে আর্থিক সহায়তা হারাতে পারে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে দেশ থেকে অভিবাসী ফেরত আসতে পারে, যা ট্রাম্পের “ম্যাগা” এজেন্ডার অংশ হিসেবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
ভিয়ানকা রড্রিগেজ, যিনি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি ও ট্রাম্পের ক্যাম্পেইনে কাজ করেছেন, এই পরিস্থিতিকে “শতুরঙ্গের খেলা, চেকার্স নয়” বলে তুলনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ভেনেজুয়েলার জনগণকে দেশ ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা হবে, ফলে অভিবাসনের প্রবাহ কমে যাবে। রড্রিগেজের মতে, এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থকে শক্তিশালী করবে।
সামগ্রিকভাবে, ফ্লোরিডার ট্রাম্প সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা হস্তক্ষেপকে দ্রুত, কম ব্যয়বহুল এবং আমেরিকান প্রাণহানি ছাড়া সম্পন্ন হওয়া একটি মডেল হিসেবে দেখছেন। তারা বিশ্বাস করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য বামপন্থী শাসনের ওপর চাপ বাড়াবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় বিশ্বশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তবে, এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত উদ্বেগের সঙ্গে বৈপরীত্যপূর্ণ, যা পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় হতে পারে।



