বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর মিছবাহুল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত কোরআন ও দোয়া মাহফিলে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা জানিয়ে দেশ গঠন ও পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই অনুষ্ঠানটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাতের জন্য আয়োজন করা হয়। উপস্থিতদের মধ্যে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আবুল কাশেম, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শোকের মুহূর্তে যে শক্তি উদ্ভূত হয় তা শুধুমাত্র নির্বাচনী স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়; বরং তা দেশের উন্নয়ন, জাতি গঠন এবং বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য কাজে লাগানো দরকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা অপরিহার্য, এবং এই ত্যাগের মাধ্যমে জাতি সত্যিকারের অগ্রগতি করতে পারবে।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, যদিও বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই, তবু তিনি দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ীভাবে বেঁচে আছেন। তার আদর্শ ও নেতৃত্বের স্মৃতি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে, এ কথায় তিনি উপস্থিত সকলকে উৎসাহিত করেন।
মাওলানা আবুল কাশেম, যিনি মাদ্রাসার পরিচালক হিসেবে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, তিনি উপস্থিতদেরকে কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া পাঠের মাধ্যমে শোকের মুহূর্তকে শান্তি ও সমবেত শক্তিতে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানান। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্যেও একই সুরে দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এই সমাবেশটি রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিএনপির জন্য বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে একটি ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ তৈরি করেছে এবং একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, সরকারী পক্ষের সমর্থকরা এই ধরনের সমাবেশকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখতে পারেন, তবে বিএনপি এই ইভেন্টকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং শোকের মুহূর্তকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, সালাহউদ্দিনের এই বক্তব্যটি বিএনপির জন্য একটি কৌশলগত বার্তা বহন করে; শোকের সময়ে গৃহীত শক্তিকে নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং জাতি গঠনের মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা হলে পার্টির জনমত গঠন ও সমর্থন বাড়তে পারে। এছাড়া, বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে করা এই ধরনের সমাবেশ পার্টির ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই একসাথে দোয়া পাঠ করেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করেন। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, এবং অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত হওয়ার প্রতিশ্রুতি জানান।



