28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানরোগে আক্রান্ত পাপা সংকেত পাঠিয়ে কলোনি রক্ষা করে, কর্মীরা ধ্বংসাত্মক পরিষ্কার করে

রোগে আক্রান্ত পাপা সংকেত পাঠিয়ে কলোনি রক্ষা করে, কর্মীরা ধ্বংসাত্মক পরিষ্কার করে

লাসিয়াস নেগ্লেক্টাস প্রজাতির কিছু পাপা যখন মারাত্মক ফাঙ্গাল সংক্রমণে আক্রান্ত হয়, তখন তারা স্বেচ্ছায় আত্মত্যাগের সংকেত ছড়ায়, যা কর্মী পোকাদের দ্বারা ধ্বংস করা হয়। এই আচরণটি বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণায় বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে পাপা ও কর্মীর পারস্পরিক ক্রিয়া কলোনির স্বাস্থ্যের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যান্টের সামাজিক গঠন এমন যে, প্রতিটি সদস্যের কাজ পুরো গোষ্ঠীর সুরক্ষায় নির্ভরশীল। বিশেষ করে লাসিয়াস নেগ্লেক্টাসের মতো প্রজাতিতে পাপা ও কর্মী পোকা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করে, যাতে রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।

পূর্বের গবেষণায় দেখা যায়, কর্মী পোকারা পাপার কিউটিকল হাইড্রোকার্বন নামক রাসায়নিক সংকেত দ্রুত সনাক্ত করতে পারে, যা রোগের উপস্থিতি নির্দেশ করে। সনাক্তকরণের পর তারা পাপার কোকুন খুলে, কিউটিকল ছিদ্র করে এবং ফরমিক অ্যাসিডের স্প্রে দিয়ে রোগমুক্ত করে। এই প্রক্রিয়াকে “ধ্বংসাত্মক সংক্রমণমুক্তি” বলা হয়।

নতুন গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, সংক্রমিত পাপা কেবলমাত্র কর্মী পোকা উপস্থিত থাকলে এই হাইড্রোকার্বন সংকেত উৎপন্ন করে। একা থাকলে তারা কোনো সংকেত দেয় না, ফলে কর্মী পোকা তাদের লক্ষ্য করতে পারে না। এই পর্যবেক্ষণ পাপার পরিবেশগত সচেতনতা ও সংকেতের নমনীয়তা প্রকাশ করে।

সংক্রমণের পর পাপার ইমিউন জিন সক্রিয় হয়, যা তাদের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, এই জিনের সক্রিয়তা সরাসরি সংকেতের উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নয়; সংকেতের প্রকাশ কর্মীর উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।

কর্মী পোকা যখন এই সংকেত সনাক্ত করে, তখন তারা পাপার কিউটিকল ভেঙে ফরমিক অ্যাসিড ছিটিয়ে দেয়। এই পদক্ষেপে কেবল রোগের স্পোরই নয়, রোগে আক্রান্ত পাপাও ধ্বংস হয়। ফলে রোগের বিস্তার রোধ হয় এবং কলোনি বেঁচে থাকে।

বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে সমগ্র দেহের কোষের সমন্বয়মূলক কাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন; যেখানে এক কোষের স্বাস্থ্যের জন্য পুরো দেহের কোষ একসঙ্গে কাজ করে, তেমনি অ্যান্টের পাপা ও কর্মী পোকা একত্রে কলোনির স্বাস্থ্যের রক্ষায় কাজ করে।

এই আত্মত্যাগমূলক আচরণকে “অ্যালট্রুইস্টিক সেলফ-ডিসঅ্যান্টি” বলা হয়, যা সামাজিক প্রাণীর মধ্যে স্ব-সুরক্ষার একটি উদাহরণ। পাপা নিজের জীবন ত্যাগ করে কলোনির সামগ্রিক স্বাস্থ্যের রক্ষা করে, যা অ্যান্টের সামাজিক ইমিউন সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই গবেষণার ফলাফল সামাজিক প্রাণীর রোগ প্রতিরোধের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে। পাপা ও কর্মীর মধ্যে সংকেতের নির্ভুলতা ও সময়োপযোগিতা দেখায় যে, অ্যান্টের সমাজে তথ্যের আদান-প্রদান কতটা সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দেখায় যে পাপা কেবল কর্মী উপস্থিতিতে সংকেত দেয়, যা কলোনির স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের স্ব-নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা অন্যান্য সামাজিক পোকাতেও থাকতে পারে, যা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে।

অ্যান্টের এই আচরণ মানব সমাজের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা যায়; যেখানে রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া পুরো সম্প্রদায়কে রক্ষা করে। অ্যান্টের স্ব-সুরক্ষা পদ্ধতি আমাদের রোগ নিয়ন্ত্রণের কৌশলকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

আপনি কি মনে করেন, অ্যান্টের এই স্ব-নিয়ন্ত্রণমূলক পদ্ধতি মানব স্বাস্থ্য নীতি গঠনে কীভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে? ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং সামাজিক প্রাণীর জটিল আচরণকে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments