ধারা-৯ নির্বাচনের জন্য প্রার্থিক পত্র জমা দেওয়ার পর একদিনের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটার স্বেচ্ছায় তার সমর্থনে স্বাক্ষর করেন, তাসনিম জারা, যিনি সম্প্রতি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ত্যাগ করেছেন, এপ্রিলে এগ্রাগোনের ইসিসি আঞ্চলিক দপ্তরে আপিল দাখিল করেন।
দুপুরের চারটায় তিনি ইসিসি সদর দফতরের ধারা-৯ অঞ্চলের বুথে আবেদন জমা দিয়ে জানালেন, “আইনি লড়াই চালিয়ে যাব”। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের স্বেচ্ছাসেবী সমর্থন ও স্বাক্ষর সংগ্রহের পরেও রিটার্নিং অফিসার আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধারা-৯ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি, এবং ইসিসি কর্তৃক পরিচালিত স্ক্রুটিনি পর্বে রিটার্নিং অফিসার আবেদনপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। জারা বলেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পথে চ্যালেঞ্জ জানাবেন এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবেন।
প্রার্থিক পত্র বাতিলের মূল কারণ হিসেবে রিটার্নিং অফিসার উল্লেখ করেছেন, আবেদনপত্রে কিছু ফরমাল ত্রুটি রয়েছে। তবে জারা দাবি করেন, এই ত্রুটিগুলি ভোটারদের স্বেচ্ছা সমর্থনকে অগ্রাহ্য করার কোনো যুক্তি নয় এবং তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সংশোধন করতে চান।
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর মাত্র এক দিন-অর্ধে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটার স্বেচ্ছায় তার পক্ষে স্বাক্ষর করায় জারা বলেন, “জনতা স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে আমাদের সমর্থন দেখিয়েছে, তাই আমরা এই সমর্থনকে সম্মান করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব”।
ইসিসি-র রিটার্নিং অফিসার রায়ের পর জারা তৎপরতা দেখিয়ে আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেব এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে ভোটারদের ইচ্ছা রক্ষা পায়”।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে রিটার্নিং অফিসার জানান, প্রার্থিক পত্রের ফরমাল ত্রুটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর পত্রে ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন না হলে বাতিল করা স্বাভাবিক।
তাসনিম জারা, যিনি পূর্বে এনসিপি-তে ছিলেন, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে নতুন দিক দিয়ে গড়ে তুলতে চান। তিনি বলেন, “আমি এখনো রাজনৈতিক মঞ্চে আছি এবং জনগণের সেবা করতে চাই, তাই আইনি লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না”।
এই আপিলের ফলে ধারা-৯ নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রার্থীদের তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি আদালত রিটার্নিং অফিসারের রায় পরিবর্তন করে, তবে জারার নাম আবার তালিকায় যুক্ত হতে পারে এবং ভোটারদের পছন্দের বিকল্প বাড়বে।
অন্যদিকে, রিটার্নিং অফিসার রায়ের পক্ষে সমর্থনকারীরা বলছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ফরমাল ত্রুটি উপেক্ষা করা যায় না। তারা জোর দিচ্ছেন, সকল প্রার্থীকে একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা উচিত।
আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে ইসিসি-র অন্যান্য প্রার্থীদেরও একই রকম আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জারার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ভোটারদের বিশাল সমর্থন ও স্বেচ্ছা স্বাক্ষরের সংখ্যা বিষয়টি আলাদা করে তুলেছে।
শেষে জারা উল্লেখ করেন, “যদি আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেয়, তবে আমরা দ্রুতই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফিরে যাব এবং জনগণের সেবা চালিয়ে যাব”। তিনি আশাবাদী যে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ভোটারদের ইচ্ছা পূরণ হবে এবং নির্বাচন ন্যায়সঙ্গতভাবে অনুষ্ঠিত হবে।



