বিএনপি কার্যনির্বাহী সভাপতি তরিক রহমানের বগুড়া সফর ১১ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। গুলশান, ঢাকায় তার বাসা থেকে প্রাতঃকালে রওনা নিয়ে তিনি বগুড়া জেলায় পৌঁছাবেন এবং রাতভর সেখানে থাকবেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হল বগুড়া জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং রংপুরে অবস্থিত ২০২৪ সালের গণউত্থানে নিহত আবু সায়েদের সমাধি পরিদর্শন।
বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, তরিক ১১ জানুয়ারি সকালেই গুলশান থেকে রওনা হবেন এবং বগুড়ায় পৌঁছে রাতভর থাকবেন। পরের দিন বগুড়া জেলা বিএনপি সংগঠিত সমাবেশে তিনি উপস্থিত থাকবেন, যেখানে সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করা দলের চেয়ারপার্সনের স্মরণে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সমাবেশটি বৃহৎ প্রার্থনা সভা হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে এবং তরিকের উপস্থিতি দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সমাবেশের সময় দলের উচ্চপদস্থ নেতারা মৃত চেয়ারপার্সনের অবদান ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন, যা তরিকের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সমাবেশের পর তরিক গাড়ি চালিয়ে রংপুরের দিকে রওনা হবেন। রংপুরে তিনি আবু সায়েদের সমাধি পরিদর্শন করবেন, যিনি ২০২৪ সালের গণউত্থানে নিহত ছিলেন। এই সফরটি তরিকের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি তার পূর্বপুরুষের বাড়ি বগুড়া প্রথমবারের মতো ১৯ বছর পর পরিদর্শন।
বগুড়া বাড়ি তরিকের পারিবারিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে তিনি শৈশবের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন। ১৯ বছর আগে লন্ডনে নির্বাসন থেকে ফিরে আসার পর থেকে তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে গিয়ে এই বাড়ি পরিদর্শন করবেন। এই সফরটি তার রাজনৈতিক পুনরায় প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তরিকের লন্ডন নির্বাসনকাল প্রায় উনিশ বছর ধরে চলেছিল। ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং তখন থেকে তিনি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেন। তার এই বগুড়া সফর তার রাজনৈতিক পুনরায় গঠন এবং স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
আসন্ন ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে তরিকের প্রার্থীতা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বগুড়া-৬ (সদর) এবং ঢাকা-১৭ উভয় নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই দ্বৈত প্রার্থীতা তার রাজনৈতিক প্রভাবকে বিস্তৃত করার একটি কৌশল, যা তার পারিবারিক ঐতিহ্য এবং রাজধানী ভিত্তি উভয়কে কাজে লাগাবে।
বগুড়া সফরের মাধ্যমে তরিকের উপস্থিতি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া বাড়াবে এবং তার ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একই সঙ্গে, সমাবেশে মৃত চেয়ারপার্সনের স্মরণে করা কার্যক্রম তরিকের দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তরিকের রওনা এবং সমাবেশের সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও যথাযথভাবে গৃহীত হয়েছে। সফরের সময় তিনি স্থানীয় ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা শোনার সুযোগ পাবেন।
এই সফরটি তরিকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯ বছর পর নিজের পারিবারিক বাড়ি পরিদর্শন এবং স্থানীয় সমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক উপস্থিতি পুনরায় প্রতিষ্ঠা করছেন।
বগুড়া সফরের পর রংপুরে আবু সায়েদের সমাধি পরিদর্শন তরিকের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হবে, যা ২০২৪ সালের গণউত্থানের শিকারের স্মৃতি জাগিয়ে তুলবে এবং তার রাজনৈতিক বার্তাকে শক্তিশালী করবে।
সামগ্রিকভাবে, তরিকের এই সফর তার রাজনৈতিক পুনরায় উত্থান, স্থানীয় ভিত্তি শক্তিকরণ এবং আসন্ন নির্বাচনে দ্বৈত প্রার্থীতা নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত কৌশল হিসেবে দেখা যায়।



