রংপুরের মেডিকেল মোড় এলাকায় ফলের দোকানের সামনে রবিবার সন্ধ্যায় এক নারীকে চাবুক ও হাতে আঘাত করে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানানো হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ্জান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়সের একজন পুরুষ লাঠি হাতে নিয়ে নারীর দিকে আক্রমণ করেন। তিনি জোরে চাবুক চালিয়ে নারীর শারীরিক ক্ষতি করেন।
আক্রমণের সময় কিছু পথচারী নারীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে ‘মারবেন না’ বলে ডাকে। তবে আক্রমণকারী রেগে গিয়ে পেছনের একজনকে শাসন করে।
অন্যান্য কিছু ব্যক্তি নারীর ওপর কেবল হাতে মারার জন্য উৎসাহ দেয়। এই সময়ে আক্রমণকারী লাঠি দিয়ে আঘাত চালিয়ে যান এবং নারীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়।
লাঠি হাতে আক্রমণকারী কিছুক্ষণ পর চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাল জ্যাকেট পরা আরেকজন ব্যক্তি নারীর দিকে হাত বাড়িয়ে আঘাত চালাতে থাকে। তিনি ধারাবাহিকভাবে নারীর দেহে আঘাত হানেন।
এই ধারাবাহিক নির্যাতনের ফলে নারীর শারীরিক ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আহত নারীর কোনো পরিচয় বা ঠিকানা পাওয়া যায়নি, ফলে তার সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন।
একজন ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, ওই নারী পূর্বে কোনো রোগীর কাছ থেকে টাকা চুরি করে পালানোর সময় ধরা পড়ে। তিনি দাবি করেন, চোরাচালান সন্দেহে নারীর ওপর গৃহীত এই পদক্ষেপটি ঘটেছে।
তবে, চোরাচালান সংক্রান্ত অভিযোগের সঠিক প্রমাণ এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ এই দিকেও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার বা আদালতের আদেশ প্রকাশিত হয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আসন্ন আদালত শুনানিতে ঘটনার সব দিক, আক্রমণকারীর পরিচয়, এবং নারীর ওপর চাবুক ও শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
এই ধরনের সংবেদনশীল অপরাধের প্রতিবেদন লেখার সময় ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং অতিরিক্ত বিশদে না গিয়ে মূল তথ্য উপস্থাপন করা জরুরি। পাঠকদেরকে জানানো হচ্ছে যে, তদন্ত চলমান এবং আইনসঙ্গত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



