20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধদুদকের আবেদন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

দুদকের আবেদন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

৫ জানুয়ারি, ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এক আদেশে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব সলিম উল্লাহর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এই পদক্ষেপ দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) এর আবেদন অনুসারে নেওয়া হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দুদকের পক্ষে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি সংস্থার সহকারী পরিচালক বিষাণ ঘোষ উপস্থাপন করেন।

দুদকের দায়ের নথিতে উল্লেখ আছে যে, সলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তার স্বীকৃত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের সন্দেহ রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।

কমিশনের দায়ের মতে, বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যানের পদে থাকা অবস্থায় এবং পূর্বে মন্ত্রণালয়গুলোতে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কাজ করার সময় তিনি তার ক্ষমতা ব্যবহার করে অপ্রকাশিত সম্পদ সঞ্চয় করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা সলিম উল্লাহ, গত বছরের মার্চ মাসে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। তার পূর্ববর্তী পদে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী তিনি ১৯৯৫ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন এবং মাঠ প্রশাসনে কাজ শুরু করেন।

প্রাথমিকভাবে গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে তিনি কাজ করেন, যেখানে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন।

এরপর তিনি বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন এবং পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও লোকাল গভার্নমেন্ট বিভাগে বহু মেয়াদে কাজ করেছেন, যা তাকে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা মানে সলিম উল্লাহ এখন থেকে আদালতের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে পারবেন না; এই আদেশটি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা আদালত অন্যথা না বলে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। লঙ্ঘন করলে আদালতের অবমাননা হিসেবে শাস্তি হতে পারে।

আদালত এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে, যেখানে দুদকের উপস্থাপিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত কোনো সীমাবদ্ধতা বা জেলায় আটক করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা তা সিদ্ধান্ত নেবে।

দুদক এছাড়াও উল্লেখ করেছে যে, চেয়ারম্যানের আর্থিক রেকর্ড এবং কর্পোরেশনের হিসাব-নিকাশের বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে; যদি তার সম্পদ স্বীকৃত আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত পাওয়া যায়, তবে তা দুর্নীতি আইন অনুযায়ী জব্দের আওতায় আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, এবং এই মামলা সেই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভবিষ্যতে আদালত কী রায় দেবে তা দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments