ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির মুখে, মার্কিন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর রদ্রিগুয়েজ interim প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লিখে জানান, ভেনেজুয়েলা শান্তি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে অটল।
রদ্রিগুয়েজের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা, যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই অগ্রাধিকার। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর রদ্রিগুয়েজ সরাসরি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং পুরো লাতিন আমেরিকা যুদ্ধ নয়, শান্তি ও সংলাপের পক্ষে। ট্রাম্প পূর্বে হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেন, মাদুরো গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলার শাসনকর্তা যদি সহযোগিতা না করে, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। একই সময়ে তিনি কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও সামরিক বিকল্পের ইঙ্গিত দেন।
মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন এবং মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে আদালতে হাজির হবেন। তার গ্রেফতার এবং আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপট অস্থিরতা দেখাচ্ছে, যা রদ্রিগুয়েজকে interim প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রাখে।
রদ্রিগুয়েজের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা ভেনেজুয়েলার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠন হিসেবে দেখছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে, অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান। তবে ট্রাম্পের সামরিক হুমকি এবং মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া এই প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।
ভেনেজুয়েলার সরকার এখন আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে, সমতা ও অ-হস্তক্ষেপের নীতিতে ভিত্তিক কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চাচ্ছে। একই সঙ্গে, দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মাদুরোর বিচারের ফলাফল ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
এই পরিস্থিতিতে লাতিন আমেরিকায় শান্তি ও সংলাপের চাহিদা স্পষ্ট, এবং ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি এবং ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে, যা পরবর্তী সপ্তাহে কূটনৈতিক আলোচনার গতি নির্ধারণ করবে।



