22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতাসনিম জারা ঢাকা‑৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাখ্যানের আপিল করেছেন

তাসনিম জারা ঢাকা‑৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাখ্যানের আপিল করেছেন

ঢাকা‑৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা, ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার দ্বারা মনোনয়নপত্র বাতিলের পর, নির্বাচনী কমিশনের ঢাকা অঞ্চলের বুথে আপিল করেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হওয়ায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং আপিলের মাধ্যমে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

তাসনিম জারা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক এ-নেত্রী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা‑৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। তবে ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তার জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বাতিলের কারণ হিসেবে কমিশন জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের কমপক্ষে ১ শতাংশের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। জারা দাবি করেন, তিনি প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের চেয়ে প্রায় ২০০টি বেশি স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন।

বাতিলের পর, তাসনিম জারা এবং তার আইনজীবী আরমান হোসেন দ্রুত আপিলের জন্য নির্বাচনী কমিশনের ঢাকা অঞ্চলের বুথে গিয়ে আবেদন করেন। আপিলের সময় জারা উল্লেখ করেন, “ঢাকা‑৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। সেটি গ্রহণ হয়নি। তাই আমরা আপিল করছি এবং আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, “একদম দেড় দিনের মাথায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে আমাদেরকে স্বাক্ষর দিয়েছেন, অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন, নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বুথ করেছেন।”

কমিশন কর্তৃক স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়ায় ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। বাকি দুইজনের স্বাক্ষর যাচাই করা হলেও, তারা ঢাকা‑৯ আসনের ভোটার নয়; যদিও তাদের ঠিকানা খিলগাঁও, তবে তাদের ভোটার তালিকায় অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত অংশ রয়েছে। এই বিষয়টি তাসনিম জারার আপিলের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আইনি দিক থেকে, তাসনিম জারার আইনজীবী আরমান হোসেন আপিলের সফলতা নিশ্চিত হলে, জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আপিলে জয় পেলে তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।”

তাসনিম জারা ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর, ফেসবুকে জানিয়েছিলেন যে তিনি কোনো দল বা জোটের সাথে যুক্ত না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এই সিদ্ধান্তের পর, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহে ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছিলেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচনী কমিশন স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য নির্ধারিত স্বাক্ষর সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। তবে তাসনিম জারার দল দাবি করে, স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং অধিকাংশ স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এই পার্থক্যই আপিলের মূল বিষয় এবং আদালতে বিচারাধীন থাকবে।

আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, তাসনিম জারার আপিলের ফলাফল রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি আনতে পারে। যদি আপিল স্বীকৃত হয়, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের সরাসরি সমর্থন পেতে সক্ষম হবেন, যা অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্যও উদাহরণস্বরূপ হতে পারে। অন্যদিকে, আপিল প্রত্যাখ্যান হলে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য স্বাক্ষর প্রয়োজনীয়তা ও যাচাই প্রক্রিয়ার কঠোরতা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

এই আপিল প্রক্রিয়া নির্বাচনী আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাসনিম জারার আইনজীবী এবং নির্বাচনী কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা উভয়ই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত, যা শেষ পর্যন্ত আদালতে শেষ হবে।

সারসংক্ষেপে, তাসনিম জারা ঢাকা‑৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার আইনজীবী আপিলের সফলতা নিশ্চিত করলে, জারা পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। আপিলের ফলাফল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অধিকার সংক্রান্ত আলোচনাকে নতুন দিক দেবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments