28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যশীতের গোধূলি: দুঃখ ও টিকে থাকার অনুভূতি

শীতের গোধূলি: দুঃখ ও টিকে থাকার অনুভূতি

ঢাকা শহরে ডিসেম্বরের প্রথম দিনগুলোতে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে শীতের ছোঁয়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দিনের আলো কমে যাওয়ায় মানুষজনের দৈনন্দিন রুটিনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা যায়। এই মৌসুমের আগমন শুধু আবহাওয়াই নয়, মানসিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলছে, তাই শীতের প্রভাবকে বুঝে নেওয়া জরুরি।

শীতের বাতাসে তীব্র শীতলতা এবং সূর্যের হালকা উপস্থিতি একসাথে শহরের রাস্তায় ভিন্ন রঙের ছাপ ফেলে। সূর্যের কিরণ কমে যাওয়ায় দিনগুলো ছোট হয়ে যায়, আর রাতের দীর্ঘতা বাড়ে। এই পরিবর্তনগুলো মানুষের মনোভাবকে ধীরে ধীরে প্রভাবিত করে, যা প্রায়শই অজানা দুঃখের আকারে প্রকাশ পায়।

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা ও বাজারে শীতের ছায়া ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শোরগোলের তীব্রতা কিছুটা কমে যায়। গাছপালা শূন্য শাখায় দাঁড়িয়ে থাকে, আর মানুষের মুখে হালকা এক নিঃশব্দতা দেখা যায়। এই নীরবতা কোনো হঠাৎ ঘটনার ফল নয়, বরং মৌসুমের স্বাভাবিক প্রবাহের অংশ।

বসন্ত ও গ্রীষ্মের তুলনায় শীতের সময়ে প্রকৃতির রঙিন দৃশ্য কমে যায়, ফলে মানুষ প্রায়শই জীবনের উজ্জ্বলতা ও প্রগতি নিয়ে চিন্তা করে। গাছের পাতা ঝরে যাওয়া, ফুলের না ফোটা—এগুলোকে অনেকেই জীবনের অভাবের চিহ্ন হিসেবে দেখে। তবে এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকৃতির গভীর কাজকে উপেক্ষা করতে পারে।

মানুষ স্বাভাবিকভাবে দৃশ্যমান পরিবর্তনকে জীবনের মূল মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে। যখন সবকিছু স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তখন আত্মবিশ্বাস বাড়ে; আর যখন দৃশ্যমানতা কমে, তখন অনিশ্চয়তা বাড়ে। এই প্রবণতা আমাদেরকে বাহ্যিক প্রকাশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল করে তুলতে পারে।

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, অস্তিত্বের মূল্যায়ন প্রায়শই প্রকাশের মাধ্যমে করা হয়। যা দেখা যায়, তা সত্য বলে ধরা হয়; আর যা লুকিয়ে থাকে, তা প্রায়শই অবহেলিত হয়। শীতের সময়ে প্রকৃতি এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে, কারণ দৃশ্যমানতা কমলেও জীবনের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।

গাছপালা শীতের সময় পাতা ঝরিয়ে দেয়, তবে তা ব্যর্থতার চিহ্ন নয়। বরং এটি শক্তি সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ ঝড়ের জন্য প্রস্তুতির একটি কৌশল। শাখা-প্রশাখা কমে যাওয়া মানে গাছের ভিতরে নতুন শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, যা পরের মৌসুমে পুনরায় উদ্ভাসিত হবে।

গাছের মূলগুলো শীতের সময় গভীরভাবে মাটিতে প্রবেশ করে, যাতে তারা শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। এই প্রক্রিয়া চোখে দেখা যায় না, তবু গাছের দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। মূলের এই গোপন কাজই গাছকে পরের বসন্তে ফুল ফোটাতে এবং গ্রীষ্মে তীব্র বাতাসের মোকাবেলা করতে সক্ষম করে।

মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম গোপন কাজের প্রয়োজন। শীতের নিঃশব্দতা আমাদেরকে আত্মবিশ্লেষণ, অভ্যন্তরীণ শক্তি গড়ে তোলা এবং মানসিক ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ দেয়। যদিও এই সময়ে বাহ্যিক সাফল্য কমে যায়, তবু অভ্যন্তরীণ ভিত্তি মজবুত করা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক হয়।

শীতের এই সময়কে শুধুমাত্র দুঃখের ছায়া হিসেবে না দেখে, তা আত্মউন্নয়নের একটি পর্যায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। নিজের অভ্যন্তরে কী পরিবর্তন ঘটছে তা লক্ষ্য করলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব। এছাড়া, শীতের পরিবেশে ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত—এক কাপ গরম চা, প্রিয় বইয়ের পাতা—অনুভব করা মনকে সান্ত্বনা দেয়।

পাঠকদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ: শীতের ঠাণ্ডা বাতাসে নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম এবং সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করে শরীরকে শক্তিশালী রাখা যায়। পাশাপাশি, দৈনন্দিন রুটিনে ধ্যান বা জার্নালিং যোগ করলে আত্মবিশ্লেষণ সহজ হয়। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো শীতের সময়কে আরও সহনীয় এবং ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, শীতের গোধূলি আমাদেরকে বাহ্যিক প্রকাশের বাইরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ শক্তি গড়ে তোলার সুযোগ দেয়। গাছের মতোই, আমাদেরও এই মৌসুমে মূলকে দৃঢ় করে ভবিষ্যতের ঝড়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। শীতের নিঃশব্দতা গ্রহণ করে, আমরা নিজের সঙ্গে নতুন সংযোগ স্থাপন করতে পারি এবং জীবনের পরবর্তী ঋতুতে আরও শক্তিশালীভাবে প্রবেশ করতে পারি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments