22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নির্বাচন‑নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ

জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নির্বাচন‑নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ

ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত) তার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক আয়োজন করে, যেখানে দলটি দেশের নির্বাচনী পরিবেশের অবস্থা ও প্রশাসনিক নিয়োগে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে। শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভা সোমবার সকাল দশটায় শুরু হয় এবং দুপুর তিনটায় সমাপ্ত হয়। বৈঠকে শফিকুর রহমান, দলীয় নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। দলটি দাবি করে যে, বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে কিছু কর্মকর্তা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। জামায়াতের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরকে অনুরোধ করেন যে, তারা তাদের দায়িত্ব পালনকালে কোনো দল‑নির্দিষ্ট ঝোঁক না দেখিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখুক। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও একই নীতি মেনে চলা প্রয়োজন বলে দলটি জোর দেয়।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনকে ন্যায্য করার পথে বাধা সৃষ্টি করছে বলে দলটি উদ্বেগ প্রকাশ করে। জামায়াতের সূত্রে জানা যায়, বৈঠকের সময় আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দলটি ১৬ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা থেকে দেশের মুক্তি পেয়েছে বলে দাবি করে এবং শিহরণময় শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে নতুন বাংলাদেশকে কোনো গোষ্ঠীর চক্রান্তের শিকার হতে না দেওয়ার আহ্বান জানায়।

বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম উল্লেখ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য আসন‑সমঝোতা, মনোনয়নপত্রের প্রত্যাহার সময়সীমা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নির্ধারিত হয়েছে। যদিও দলটি এই বিষয়গুলোতে স্পষ্ট দাবি তুলে ধরেছে, তবে বৈঠকের পর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৈঠকের সময় জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি নেওয়া হয়, যা সভার আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। বৈঠকের শেষে, দলটি পুনরায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায় যে, তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। জামায়াতের মতে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে দ্রুত ও দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণই একমাত্র উপায়।

এই বৈঠকের পর, জামায়াতের নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনো সরকারী প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে তারা ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দলটি উল্লেখ করে যে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হয়।

বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়সঙ্গত করা, যাতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে। জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, যদি প্রশাসনিক পক্ষপাত দূর করা না হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল ও দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দলটি নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়, যাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া উভয়ই সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য হয়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments