19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

জামায়াতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

ঢাকা শহরের মোগবাজারে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের আজকের বৈঠকে ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও আসন্ন রেফারেন্ডামের পরিবেশ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সভাটি শাফিকুর রহমান জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত উচ্চপদস্থ নেতারা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সমালোচনামূলক মতামত প্রকাশ করেন।

বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এখনও একটি মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারী কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করার অভিযোগ উঠে এবং রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আক্রমণ বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

সভায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১৬ বছর ধরে চলমান সংগ্রাম ও আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিবাদী শক্তি দুর্বল হয়েছে, তবে এই অর্জন ১,৫০০ শহীদ ও ৩০,০০০ এরও বেশি আহত ও অক্ষম কর্মীর ত্যাগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই ত্যাগকে কোনো ষড়যন্ত্র বা গোষ্ঠীর হাতের খেলায় পরিণত হতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি অনুরোধ করেন যে তারা কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই তাদের দায়িত্ব পালন করুক। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপের দাবি তীব্রভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার জন্যও তৎপরতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের ওপর হিংসা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এখনও বিরাট উদ্বেগের কারণ হিসেবে রয়ে গেছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সভায় উপস্থিত নায়েব-এমির, সচিব সাধারণ, সহ-সচিবগণ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা একত্রে এই উদ্বেগগুলোকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত রূপরেখা প্রস্তুত করেন। তারা ভবিষ্যতে নির্বাচনের সময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের সুপারিশ করেন।

বৈঠকের শেষে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বের পক্ষ থেকে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়, যেখানে নির্বাচনের পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে সকল রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনর্স্থাপন করার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা উচিত, যাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমে যায়। একই সঙ্গে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে তারা সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ন্যায়সঙ্গত নজরদারি বজায় রাখবে।

জামায়াতে ইসলামী এই অবস্থানকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রকাশনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একটি রেফারেন্স পয়েন্ট সরবরাহ করে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, জামায়াতের এই সমালোচনা ও আহ্বান সরকারী ও বিরোধী উভয় পক্ষের জন্যই একটি সতর্কবার্তা হতে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

অবশেষে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বের এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে, যেখানে সকল পক্ষের সমান অধিকার ও দায়িত্বের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্য থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments