সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী রমজান মাসে পুরো শিক্ষাবর্ষের ছুটির দাবি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট একটি আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠিয়েছেন। নোটিসে মন্ত্রিপরিষদের প্রস্তাবিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে রমজানের প্রথম একুশ দিন খোলা রাখার নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
নোটিসের প্রেরক মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল, যিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত, তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশে ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলিম এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা ঐতিহ্যগত রীতি। তিনি বলেন, এই রীতি আইন, প্রথা এবং নীতির সমন্বয়ে গঠিত এবং তা পরিবর্তন করা সংবিধানিক ভিত্তি থেকে বিচ্যুত।
মন্ডল নোটিসে সংবিধানের ৩১ নং অনুচ্ছেদ ও ১৫২(১) ধারার উল্লেখ করে যুক্তি দেন যে, কোনো পদক্ষেপের বৈধতা নিশ্চিত করতে আইনগত ভিত্তি থাকা আবশ্যক। তিনি বলেন, সংবিধানের ধারাগুলো আইন ছাড়া অন্য কোনো পদক্ষেপকে অনুমোদন করে না এবং প্রথা ও রীতি সংবিধানের অধীনে সুরক্ষিত। ফলে রমজানের প্রথম একুশ দিন বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অসংবিধানিক’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
নোটিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, রমজান মাসে পুরো শিক্ষাবর্ষের ছুটি রাখা শিক্ষার্থীদের রোজা পালনকে সহজতর করবে। ধারাবাহিক রোজা অভ্যাসের ব্যাঘাত ঘটলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এটাই নোটিসের মূল উদ্বেগ। তিনি বলেন, রমজানের প্রথম তিন সপ্তাহে বিদ্যালয় চালু রাখলে শিক্ষার্থীরা ক্লান্তি ও রোজা রক্ষার কষ্টের সম্মুখীন হতে পারে।
শহরাঞ্চলে রমজান মাসে বিদ্যালয় চালু রাখলে যানজটের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে নগর বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচলে অতিরিক্ত কষ্ট হয়, এ কথাও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে রোজা রক্ষাকারী কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই অতিরিক্ত চাপকে ন্যূনতম রাখা প্রয়োজন, মন্ডল যুক্তি দেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে রমজান মাসের প্রথম একুশ দিন বিদ্যালয় খোলা রাখার কথা বলা হলেও, নোটিসে বলা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্তটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ‘এক প্রকার বৈষম্য’ সৃষ্টি করে। কারণ, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন ও শিক্ষার মধ্যে দ্বন্দ্বের মুখে পড়তে পারে।
মন্ডল নোটিসে উল্লেখ করেন যে, রমজান মাসে পুরো শিক্ষাবর্ষের ছুটি রাখলে শিক্ষার্থীদের রোজা রক্ষার অভ্যাসে কোনো বাধা না থাকে এবং ধর্মীয় চর্চা বজায় থাকে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
নোটিসের প্রেরক মন্ডল আরও উল্লেখ করেন যে, রমজান মাসে বিদ্যালয় চালু রাখলে শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে গাড়ির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ফলে ট্রাফিক জ্যাম ও পরিবহন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি নগর বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত চাপ যোগায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিসটি রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। নোটিসে উল্লিখিত বিষয়গুলো সরকারী নীতি পরিবর্তনের জন্য আইনি ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মন্ডল নোটিসে উল্লেখিত যুক্তিগুলোকে ভিত্তি করে তিনি সরকারকে রমজান মাসে পুরো শিক্ষাবর্ষের ছুটি প্রদান করার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপটি ধর্মীয় রীতি ও সামাজিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এই নোটিসের প্রেরণার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নোটিসে উল্লিখিত বিষয়গুলো ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা রমজান মাসে শিক্ষাবর্ষের ছুটি নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, তবে মন্ডল নোটিসের মূল দাবি হল রমজান মাসে পুরো শিক্ষাবর্ষের ছুটি রাখা ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অধিক উপযুক্ত।
শিক্ষার্থীদের রোজা রক্ষার সঙ্গে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারী নীতি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা এখনই মূল প্রশ্ন। এই প্রেক্ষিতে নোটিসে উল্লিখিত আইনি ও সাংবিধানিক দিকগুলোকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়েছে।
**ব্যবহারিক টিপস:** রমজান মাসে আপনার সন্তান যদি স্কুলে যায়, তবে রোজা না রাখার সময়সূচি, পুষ্টিকর স্ন্যাকস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। এছাড়া, ট্রাফিক জ্যামের সম্ভাবনা বিবেচনা করে স্কুলে যাওয়ার সময়সূচি সমন্বয় করা যেতে পারে। আপনার মতামত জানাতে মন্তব্যে লিখুন।



