বিপুল অমৃতলাল শাহ এবং সানশাইন পিকচার্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে তৈরি “বিয়ন্ড দ্য কেরালা স্টোরি” চলচ্চিত্রের মুক্তির তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ছবি বড় পর্দায় আসবে এবং এটি কেরালা স্টোরি সিরিজের দ্বিতীয় অধ্যায় হিসেবে পরিচিত হবে।
ফিল্মের প্রকাশনা সংস্থা একটি মোশন পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে তারিখের ঘোষণা দিয়েছে। পোস্টারে লেখা আছে যে, গল্পটি কেবল একটি কাহিনী নয়; কেউ এটিকে নীরব করতে চেয়েছে, তবু সত্যের প্রবাহ থামেনি। এবার গল্পটি আরও গভীর এবং কষ্টদায়ক দিক থেকে উপস্থাপিত হবে।
প্রযোজকরা জানান, “বিয়ন্ড দ্য কেরালা স্টোরি” বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যেখানে শিকারদের কণ্ঠস্বর এবং অগোছালো গল্পগুলোকে সামনে আনা হবে। ছবিতে নতুন মুখের নারী অভিনেত্রীদের প্রধান ভূমিকায় দেখা যাবে, যাদের অভিনয়কে স্বাভাবিক ও বাস্তবিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রথম অংশের তুলনায় এই সিক্যুয়েলটি কেরালার সীমা ছাড়িয়ে পুরো ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সত্যিকারের ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এভাবে চলচ্চিত্রটি দেশের বিস্তৃত সামাজিক বাস্তবতাকে একত্রে তুলে ধরতে চায়, একই সঙ্গে ডকুমেন্টারি শৈলীর নৈমিত্তিকতা বজায় রাখবে।
কেন্দ্রিক কাহিনী কেরালায় ঘটিত ঘটনাগুলোর ওপর ভিত্তি করে হলেও, নতুন ছবিটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গল্পকে একত্রিত করে একটি বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে। এতে দর্শকরা বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।
২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “দ্য কেরালা স্টোরি” বছরটির অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র হিসেবে উঠে আসে এবং তা জাতীয় পুরস্কার জিতেছে। পরিচালনা ও চিত্রগ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মান পেয়ে এই ছবি হিন্দি সিনেমার আধুনিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে।
সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় “বিয়ন্ড দ্য কেরালা স্টোরি”কে আরও বৃহত্তর স্কেল এবং তীব্র বর্ণনামূলক পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্মাতারা এটিকে স্বতন্ত্র সিক্যুয়েল নয়, বরং মূল গল্পের ধারাবাহিকতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা দর্শকের মনের গভীরে প্রভাব ফেলবে।
চলচ্চিত্রের পরিচালনা কাজও অভিজ্ঞ পরিচালক বিপুল অমৃতলাল শাহের তত্ত্বাবধানে হবে, যিনি পূর্বে বহু বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক সাফল্য অর্জন করেছেন। সানশাইন পিকচার্স লিমিটেডের উৎপাদন শৈলী এবং বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছবিটি ব্যাপক দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে।
প্রকাশনা সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, ছবির শুটিং চলাকালে বিভিন্ন রাজ্যের লোকজনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বরকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। এতে করে চলচ্চিত্রটি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, সামাজিক সচেতনতারও এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে।
বাজারে ছবির প্রচারমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি মোশন পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ও প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। পোস্টারের টেক্সটটি গল্পের অমলিন সত্যকে তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতে আরও গভীর ও কষ্টদায়ক দিকগুলোকে প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়।
সামগ্রিকভাবে, “বিয়ন্ড দ্য কেরালা স্টোরি”কে একটি বৃহত্তর সামাজিক বর্ণনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কষ্ট ও সংগ্রামকে একত্রে দেখানো হবে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নির্মাতারা দেশের বিভিন্ন কোণার বাস্তবতা ও মানবিক দিকগুলোকে আলোকিত করতে চান।
প্রকাশনা সংস্থার মতে, ছবির মুক্তি তারিখের কাছাকাছি আরও বিস্তারিত তথ্য ও ট্রেলার প্রকাশ করা হবে, যা দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করবে। এই ছবিটি ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে বড় পর্দায় আসা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে।



