সিডনি গ্রীন গেট পার্কে পঞ্চম অ্যাশেস টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষের দিকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়, যা মাঠের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির দিন হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। বৃষ্টির মুহূর্তে ইংল্যান্ডের পিচে চাপ বাড়ে এবং দলটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়।
ইংল্যান্ডের ওপেনার জো রুট ১৬০ রান করে টেস্টের মোট স্কোরকে ৩৮৪-এ নিয়ে আসে, যা সিরিজে তুলনামূলকভাবে উচ্চ। রুটের দীর্ঘ ইনিংসের পরেও দলটি ব্যাটিংয়ে স্বস্তি পায় না, কারণ বোলিং দিক থেকে বিপর্যয় শুরু হয়।
বেন স্টোকস দুইটি উইকেট নিলেও ইংল্যান্ডের বোলিং ইউনিটের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অস্ট্রেলিয়া ৩৪.১ ওভারে ১৬৬-২ স্কোরে পৌঁছে, যা ইংল্যান্ডের প্রত্যাশিত প্রতিরোধকে ভেঙে দেয়।
একজন প্রাক্তন ইংলিশ স্পিনার এই পারফরম্যান্সকে দশের মধ্যে মাত্র দুই নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন এবং এটিকে সরলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মন্তব্যে দেখা যায় যে সমস্যাটি মৌলিক এবং গভীর।
ইংল্যান্ডের বোলারদের সরবরাহ করা শটগুলো বেশিরভাগই ছোট বা চওড়া, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার শুরুর ছয় ওভারে সাতটি বাউন্ডারি আসে। এই ধরনের শটগুলো মূলত কাট এবং পুলের মাধ্যমে নেওয়া হয়।
গত ছয় সপ্তাহে একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে; পার্থ এবং ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের বোলাররা অস্ট্রেলিয়াকে ১৬.৩ ওভারে এবং ১৭.২ ওভারে যথাক্রমে ১০০ রান করতে দিয়েছে, যা ১৪০ বছরের অ্যাশেস ইতিহাসে দ্রুততম স্কোরের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে।
ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণকে নতুন আশার স্রোত হিসেবে দেখা হয়েছিল, তবে লাইন ও দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে। এই ব্যর্থতা তাদের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করেছে।
ব্রায়ডন কার্স এবং ম্যাথিউ পটস প্রথম ছয় ওভারে অনিয়মিত বলের মাধ্যমে টোন নির্ধারণ করে, যার মধ্যে সাতটি ফোর সবই কাট ও পুলের মাধ্যমে নেওয়া হয়। তাদের বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা অনুপস্থিত ছিল।
প্রথম ছয় ওভারে পটস এবং কার্সের ৪৮ মিটার থেকে কম দৈর্ঘ্যের বলের শতাংশ যথাক্রমে ৪৭% এবং ১৯% অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় বেশি ছিল, যা বোলারদের দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে ব্যর্থতা নির্দেশ করে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পটস সাত ওভারে ০-৫৮ রান দিয়ে শেষ করেন, আর কার্সের গড় রেট প্রতি ওভারে চার রানের বেশি, যদিও জেক ওয়েদারাল্ডকে তার বোলিং থেকে ড্রপ করা হয়।
স্টোকস ১৩তম ওভারে ওয়েদারাল্ডকে লবওয়াই করে, এবং জশ টাংয়ের সঙ্গে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হন, তবে ট্র্যাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশ্যাগনে ১১০১ বলে ১০৫ রান করে দ্বিতীয় উইকেটের জন্য পার্টনার গঠন করে।
পরবর্তী দিন টেস্টের শেষ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত থাকবে, এবং মাঠের অবস্থা ও বোলিং পারফরম্যান্সের উন্নতি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করবে।



