ঢাকা – বাংলাদেশ ব্যাংক তার কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ফোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি নতুন সুবিধা চালু করেছে। এই পদক্ষেপটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে জানুয়ারি ৫, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়। সুবিধার মূল উদ্দেশ্য হল কর্মীদের ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকের সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, নতুন সুবিধা অনুসারে কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ক্রয়ের সময় বিশেষ ছাড় বা আর্থিক সহায়তা পেতে পারবেন। সুবিধার শর্তাবলী এবং প্রযোজ্য মডেলগুলো ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে পৃথক নোটিশে প্রকাশ করা হবে। এই নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে কর্মীদের কাজের দক্ষতা ও গ্রাহক সেবা মান উন্নত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশে স্মার্টফোনের চাহিদা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্লোবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মোবাইল সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১.৭ কোটি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে স্মার্টফোনের অংশ ক্রমাগত বাড়ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য এই সুবিধা বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে উচ্চমানের ডিভাইসের ক্ষেত্রে। ফলে রিটেইল বিক্রেতা ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিক্রয় বৃদ্ধি পেতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, সরকারি সংস্থার কর্মচারীদের জন্য এমন সুবিধা প্রদান করলে মোট ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং স্থানীয় উৎপাদনকারী ও আমদানিকৃত পণ্যের বিক্রয় উভয়ই উপকৃত হয়। যদিও সুবিধার সুনির্দিষ্ট আর্থিক প্রভাব এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে ব্যাংকের বাজেটের মধ্যে এই খরচের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতি অনুযায়ী, কর্মচারীদের কর্মক্ষমতা ও সন্তুষ্টি বাড়াতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হয়। পূর্বে ব্যাংক কর্মীদের জন্য গাড়ি লিজ, হাউজিং লোন এবং স্বাস্থ্য বীমা সহ নানা সুবিধা চালু করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা যোগ হওয়া এই ধারার একটি সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুবিধা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ব্যাংক একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করবে, যেখানে কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করে আবেদন করতে পারবেন। অনুমোদন প্রাপ্তির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফোনের ক্রয় সম্পন্ন করা যাবে এবং সংশ্লিষ্ট ছাড় বা আর্থিক সহায়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োগ হবে। এই ডিজিটাল পদ্ধতি আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করবে।
বাজারে ইতিমধ্যে কিছু মোবাইল বিক্রেতা ও টেলিকম অপারেটর এই সুবিধা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে বিশেষ প্যাকেজ তৈরি করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এ ধরনের সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে পারে, কারণ বিক্রেতারা বড় পরিমাণে বিক্রয় নিশ্চিত করতে পারবে এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে ডিভাইস পেতে পারবে।
সুবিধার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ব্যাংক একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি সুবিধার ব্যবহার হার, কর্মচারীর সন্তুষ্টি এবং বাজারে সৃষ্ট প্রভাবের উপর নিয়মিত রিপোর্ট প্রস্তুত করবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুসারে শর্তাবলী সমন্বয় করা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন উদ্যোগটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু কর্মীদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি নয়, দেশের মোবাইল বাজারের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা রাখে। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে এই ধরনের নীতি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।



