22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপ্যারিসের আদালতে ব্রিজিট ম্যাক্রনের বিরুদ্ধে সাইবার‑বুলিং মামলায় দশজন দোষী সাব্যস্ত

প্যারিসের আদালতে ব্রিজিট ম্যাক্রনের বিরুদ্ধে সাইবার‑বুলিং মামলায় দশজন দোষী সাব্যস্ত

প্যারিসের একটি আদালত দশজনকে ব্রিজিট ম্যাক্রন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমমানুয়েল ম্যাক্রনের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাইবার‑বুলিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযুক্তরা তার লিঙ্গ ও যৌনতা সম্পর্কে মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে দেওয়া এবং দম্পতির ২৪ বছরের বয়স পার্থক্য নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করার জন্য দায়ী।

বিচারক উল্লেখ করেন যে আটজন পুরুষ ও দুইজন নারী স্পষ্টভাবে ম্যাক্রনকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবমাননাকর ও হেয়কর মন্তব্য করেছে। এদের অধিকাংশকে আট মাস পর্যন্ত শাস্তি সহ স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর একজনকে আদালতে না আসার কারণে সঙ্গে সঙ্গে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুইজনের মধ্যে স্বয়ংপ্রতিষ্ঠিত স্বাধীন সাংবাদিক নাতাচা রে এবং ইন্টারনেট ভবিষ্যদ্বক্তা আমান্ডিন রোয় রয়েছে। ২০২৪ সালে তারা প্রথম স্ত্রীর অস্তিত্বই নেই বলে মিথ্যা দাবি করে মানহানির অভিযোগে দোষী হয়েছিল। তারা দাবি করেছিল যে ব্রিজিটের ভাই জঁ‑মিশেল ট্রোনো তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে তার নাম ব্যবহার করেছে।

এই দুইজনের পূর্বের মানহানি মামলায় কিছু রায় পরবর্তীতে বাতিল করা হলেও, এই নতুন রায়ে তাদের পূর্বের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি এবং নতুন মিথ্যা তথ্যের প্রচারকে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে।

ফ্রান্সে এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বৃহত্তর মামলার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যাক্রন দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী প্রভাবশালী ক্যান্ডেস ওয়েন্সের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেছে। ওয়েন্সও ব্রিজিটের লিঙ্গ সম্পর্কে একই রকম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করে আসছেন।

ওয়েন্স তার পডকাস্ট ও সামাজিক মিডিয়ায় বারবার দাবি করেন যে ব্রিজিট ম্যাক্রন প্রকৃতপক্ষে পুরুষ এবং তিনি তার পুরো পেশাগত সুনামকে এই বিশ্বাসের পক্ষে ঝুঁকিতে রাখতে ইচ্ছুক। তার এই বক্তব্যের কোনো প্রমাণিক ভিত্তি না থাকলেও তিনি তা অব্যাহতভাবে পুনরাবৃত্তি করছেন।

ব্রিজিট ম্যাক্রনকে লক্ষ্য করে এই ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ২০১৭ সালে তার স্বামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তবুও তিনি ২০০৭ সালে, যখন তার স্বামী ২৯ বছর বয়সী এবং তিনি মধ্য-৫০-এর দশকে ছিলেন, তখনই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ম্যাক্রন দম্পতি প্রথমে একে অপরকে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের মাধ্যমে চেনেন; ব্রিজিট তখন তার স্বামীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। এই প্রেক্ষাপটের পরেও অনলাইন ঘৃণামূলক মন্তব্যের শিকড় গভীর হয়ে গিয়েছিল।

আদালতের রায়ের পর, ফরাসি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছে। সাইবার‑বুলিং এবং মানহানির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে এই রায়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধিকন্তু, ফ্রান্সের আইনি ব্যবস্থার অধীনে ভবিষ্যতে অনুরূপ কেসে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত গৌরব ও মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।

ম্যাক্রন দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চলমান মামলায়ও একই রকম রায়ের প্রত্যাশা করছেন। তারা দাবি করেন যে ক্যান্ডেস ওয়েন্সের প্রচারিত মিথ্যা তথ্য তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তা সংশোধনের জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই মামলাগুলি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার‑বুলিং ও মানহানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনলাইন ঘৃণামূলক কন্টেন্টের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments