19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রামে ইয়াবা উদ্ধার পর মুক্তি পেয়ে ৮ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

চট্টগ্রামে ইয়াবা উদ্ধার পর মুক্তি পেয়ে ৮ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের নির্দেশে গত সোমবার আটজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে একটি তল্লাশি অভিযান থেকে পাওয়া ইয়াবা এবং সংশ্লিষ্ট এক কনস্টেবলের মুক্তি সংক্রান্ত অভিযোগ। বরখাস্তকৃতদের মধ্যে রয়েছে বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল‑আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন (বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় কর্মরত), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, মো. জিয়াউর রহমান, মো. সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা ও নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা।

পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, বরখাস্তের ভিত্তি হল মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতনকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বৈধ আদেশ অমান্য করা। এই শাস্তি প্রয়োগ করা হয়েছে পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) ধারা‑৮৮০ অনুসারে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর রাতের দিকে, যখন নগরের নতুনব্রিজ এলাকায় একটি তল্লাশি চৌকিতে দেশ ট্রাভেলসের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকা গমনের পথে ছিল এবং তল্লাশির সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মূল্যমানের ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

তবে তল্লাশি শেষে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে প্রায় রাত ৩:৩০ টায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তে জানা যায়, হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে ইয়াবা বহন করার জন্য সম্মত হন এবং কোনো ছুটি না নিয়ে ঢাকা গমনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তল্লাশির সময়ই তার ব্যাগ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও, তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ইমতিয়াজ হোসেনের এই কাজের পরিপ্রেক্ষিতে নগর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ফলস্বরূপ জানা যায়, হোসেনের সঙ্গে থাকা ইয়াবা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদেরকে দমপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের নিয়মিত হাজিরা ও রোল কলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আদালত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের মুক্তি এবং ইয়াবা আত্মসাৎ সংক্রান্ত সব দিক স্পষ্ট করা যায়।

পুলিশের মতে, তল্লাশি চৌকিতে উদ্ধার করা ইয়াবা এবং সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা আইনি দিক থেকে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত চলাকালে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে, পুলিশ বিভাগ ভবিষ্যতে তল্লাশি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

অবশেষে, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের আওতায় দায়িত্বশীল করা হবে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments