ইসরায়েলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষের জন্য নতুন প্রস্তুতি নিতে আদেশ পেয়েছে, যা চ্যানেল ১২ সম্প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী সোমবার প্রকাশিত হয়েছে।
আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির চার বছরের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা তত্ত্বাবধান করছেন; এই পরিকল্পনার একটি অংশ এখন যুদ্ধের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
প্রস্তুতি পরিকল্পনায় উপগ্রহভিত্তিক আক্রমণ এবং মহাকাশ থেকে ভূমি লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আঘাতের সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তিনটি সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে ইরানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ইরানে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যাপক প্রতিবাদ চলছে; এই অস্থিরতা ব্যবহার করে তেহরান ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি স্তরে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সামাজিক মাধ্যমে ইরানের প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছে।
মোসাদের দাবি অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদে তার সংস্থার কিছু সদস্যের সংগঠনমূলক ভূমিকা ছিল।
প্রতিবাদে বহু মানুষ নিহত হয়েছে; অংশগ্রহণকারীরা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে বাদ পড়া রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দাবি করে তেহরানের শাসনবিরোধী স্লোগান তুলছে।
ইরানের সরকার এই অশান্তি সামলাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং জনগণের মধ্যে শাসন পরিবর্তনের চাহিদা তীব্রতর হচ্ছে।
একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে ইরানের সরকার যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে এবং এর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ইসরায়েলের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইসরায়েলের বহুমুখী যুদ্ধ প্রস্তুতি অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে বলে সতর্ক করছেন, বিশেষ করে যদি কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হয়।
পরবর্তী সময়ে আরও সামরিক অনুশীলন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং উত্তেজনা হ্রাসের জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।



