20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী গ্রিনল্যান্ড দখল হুমকি বন্ধের আহ্বান জানালেন

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী গ্রিনল্যান্ড দখল হুমকি বন্ধের আহ্বান জানালেন

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন বুধবার কিউবেকের ক্যাবিনেট রুমে যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডের সম্ভাব্য দখল সংক্রান্ত হুমকি বন্ধ করতে অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডকে নিজের অংশ করার দাবি বাস্তবিকভাবে অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

ফ্রেডরিকসেন বলেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ তিনটি অঞ্চল—ডেনমার্ক, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ এবং গ্রিনল্যান্ড—কে কোনো বিদেশি শক্তি দখল বা অন্তর্ভুক্ত করার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তিনি এ কথা সরাসরি এবং স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের মন্তব্যগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদের উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে দ্বীপটি যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা ফ্রেডরিকসেনের মন্তব্যের পরও অব্যাহত থাকে।

ডেনিশ সরকারের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড উভয়ই ন্যাটোর সদস্য এবং তাই সামরিক জোটের নিরাপত্তা গ্যারান্টির আওতায় রয়েছে। ফ্রেডরিকসেন এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি ভাষায় কথা বলেন।

ডেনমার্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার অনুমতি দেয়। এই চুক্তি ন্যাটো কাঠামোর অংশ হিসেবে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তিশালী করে।

আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে ডেনমার্ক সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে। নতুন অবকাঠামো, নজরদারি ব্যবস্থা এবং সামরিক প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ফ্রেডরিকসেন যুক্তরাষ্ট্রকে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করেন, যেন তারা আরেকটি দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিরুদ্ধে হুমকি না দেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অধিকার বিক্রয়ের জন্য নয়, বরং স্বায়ত্তশাসনের অধিকার রক্ষার জন্য।

কয়েক ঘণ্টা পরে, ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে আবারও গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং ডেনমার্ক তা সামলাতে সক্ষম নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতও একই দিনে একটি মন্তব্য করেন, যেখানে দুই দেশের ঐতিহাসিক মিত্রতা ও পারস্পরিক সম্মানের কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করেন।

এই পারস্পরিক মতবিরোধের সময়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে। ট্রাম্প এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূ-রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ট্রাম্পের মতে, এখন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনা করবে এবং আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলোকে দেশের জন্য আয় উৎপাদন শুরু করতে দেবে। এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক নীতি নিয়ে আলোচনার উদ্রেক করে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডরিকসেনের সতর্কতা এবং ট্রাম্পের দৃঢ় অবস্থান ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য উত্তেজনা বাড়াতে পারে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখতে কী ধরণের সমঝোতা হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণের দাবি চালিয়ে যায়, তবে ডেনমার্কের সঙ্গে তার সামরিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্কের আর্কটিক নিরাপত্তা উদ্যোগগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হতে পারে।

পরবর্তী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিটিংয়ে এই বিষয়টি আলোচনার মূল এজেন্ডা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে উভয় পক্ষেরই কূটনৈতিক সমঝোতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments