ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আজাদী পদযাত্রার আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থী, প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বলেন, সরকার এক নির্দিষ্ট দল, অর্থাৎ বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে।
পাটওয়ারী জানান, বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি দেখছেন, প্রশাসনিক পদে থাকা কর্মকর্তারা বিএনপির স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরিক রহমানের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানানো সত্ত্বেও, সরকারী কর্মকর্তারা অফিসের বদলে রোডের পাশে গিয়ে তরিকের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেছেন, যা তিনি শেখ হাসিনার শাসনকালের সঙ্গে তুলনা করেন।
বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে এমন দৃশ্য আর দেখা উচিত নয় এবং দেশের স্বাধিন্য রক্ষার জন্য আজাদী জোটের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে তারা স্বাধীনতার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাবে, আর এই জোটের প্রতীক হিসেবে আজাদী চিহ্ন বেছে নিয়েছেন।
পাটওয়ারী আরও বলেন, আজাদী জোটের মূল উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশকে সব ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরাধীনতা থেকে মুক্ত করা। তিনি জোর দেন, জোটের সদস্যরা একসাথে কাজ করে এই লক্ষ্য অর্জনে অটল থাকবেন।
এদিকে, তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিরের কবর জিয়ারত করেন। হাদিরের কবর ভ্রমণের পর তিনি বলেন, হাদিরের স্বপ্নের ধারায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আজাদী যাত্রা পুনরায় শুরু হয়েছে।
পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, আজ থেকে ঢাকা‑৮ আসনের রমনা, শাহবাগ, মতিঝিল, শাহজাহানপুরসহ পুরো দেশকে তিনি ‘আজাদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করছেন। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, যদি কোনো ব্যক্তি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কাজ বা দখলদারিতে জড়িত হয়, তবে তাদের গ্রেপ্তার করে প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর করা হবে।
অধিকন্তু, তিনি সতর্ক করেন, যদি প্রশাসন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বা আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর পক্ষে দাঁড়ায়, তবে জনগণকে তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই বক্তব্যে তিনি আজাদী জোটের স্বতন্ত্রতা ও স্বনির্ভরতা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনের প্রতি পাটওয়ারীর অভিযোগের তীর সরাসরি বিএনপির দিকে নির্দেশিত। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারী কর্মকর্তাদের কাজকর্মে পার্টি ভিত্তিক পক্ষপাত স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা দেশের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
এদিকে, এনসিপি-সহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা এই অভিযোগকে সমর্থন করে, তারা বলেছে, জোটের লক্ষ্য হল দেশের সার্বিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, এবং কোনো একক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কোনো স্থান নেই।
পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর, আজাদী পদযাত্রা শুরু হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ‘আজাদী’ স্লোগান গুঞ্জন করে, এবং সরকারের প্রতি তাদের অবিশ্বাস প্রকাশ করে। এই আন্দোলনটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের অভিযোগ ও প্রতিবাদ ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারী পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সারসংক্ষেপে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ, আজাদী জোটের স্বাধীনতা লক্ষ্যের পুনর্ব্যক্তি এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে।



