19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসিতাকুন্ডা সমুদ্রতটে শিপব্রেকিং কর্মী দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার

সিতাকুন্ডা সমুদ্রতটে শিপব্রেকিং কর্মী দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার

সিতাকুন্ডা সমুদ্রতটে শিপব্রেকিং কর্মী দুজনের মৃতদেহ আজ প্রাতঃকাল ২:৩০ টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহের পরিচয় সাইফুল ইসলাম ও আবদুল খালেক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে; উভয়ই কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে কাজ করতেন। ঘটনাস্থল চট্টগ্রামের কুমিরা এলাকায় অবস্থিত শিপব্রেকিং কর্মস্থল, যেখানে রাতের বেলা সমুদ্রতটে কাজ চালু থাকে।

মৃতদেহের পুনরুদ্ধার স্থানীয় শিল্প পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। তিনি জানান, দুইটি দেহ সমুদ্রতটে পাওয়া যায় এবং এক দেহের হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। দেহের সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন, এবং অটোপ্সি কাজের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাছে পাঠানো হবে।

দেহের অবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য জানানো হয়েছে যে, বিচ্ছিন্ন অংশগুলো প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার প্রভাবের ফলে হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক বিশ্লেষণ অপরিহার্য। অটোপ্সি ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশিত হবে না।

শিপব্রেকিং কর্মস্থল ও ফ্যাক্টরি পরিদর্শন বিভাগের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর শাহিদ পারভেজ জানান, বিভাগটি ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে এবং তদন্তে সহায়তা করার জন্য现场ে উপস্থিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশিত হয়নি এবং তদন্ত চলমান।

কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের মালিক তাসলিম উদ্দিন পূর্বে কর্মস্থলে চুরি ও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত রাতেও একটি আক্রমণ ঘটেছিল এবং সেই সময়ে দুই কর্মী দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

শিপব্রেকিং শ্রমিক ইউনিয়ন ফোরামের সমন্বয়কারী তাপন দত্তের মতে, কর্মীরা রাতের বেলা জাহাজ বিচিং কাজের সময় দুঃখজনকভাবে মারা গেছেন। তিনি এই ঘটনাকে অবহেলা বলে সমালোচনা করে, দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং মৃত কর্মীদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

স্থানীয় পুলিশ ও ফ্যাক্টরি পরিদর্শন বিভাগ এখনো একত্রে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অটোপ্সি ফলাফল পাওয়া মাত্রই মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, শিপব্রেকিং শিল্পে নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্বিবেচনা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।

স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনার পর কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে। শিপব্রেকিং কাজের সময় শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে জানানো হয়েছে।

দুইজনের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানিয়ে, সমাজের সকল স্তরে শিপব্রেকিং শিল্পের নিরাপত্তা সংস্কার ও শ্রমিকদের কল্যাণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments