19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএসএস অফিসার ফোরাম রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অব্যাহতি ও নিরপেক্ষতা দাবি

বিএসএস অফিসার ফোরাম রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অব্যাহতি ও নিরপেক্ষতা দাবি

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা নির্ধারণে অংশ নেওয়া কিছু রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার ফোরাম কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। ফোরামটি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং অন্যান্য আটটি দাবি উপস্থাপন করেছে।

বিবৃতি প্রকাশের জন্য ৫ জানুয়ারি সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ফোরামের সদস্য-সচিব এবং সরকাটের প্রাক্তন সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোট ও সংসদীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনিক ক্যাডারসহ সরকারী সকল বিভাগের কর্মীদের নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।

শরিফুল আলমের মতে, পূর্বের তিনটি নির্বাচন ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে চিহ্নিত হয়েছে; এতে শাসক গোষ্ঠী, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে, যা প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করে।

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্যাপক সমালোচনা দেখা গেছে। সমালোচকরা দাবি করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা না থাকলে প্রার্থী নির্বাচন ধাপেই ভোটারদের আস্থা হারিয়ে যাবে এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায়, নিরপেক্ষতা হারিয়ে গেলে প্রভাবশালী দল ও প্রার্থীরা প্রশাসনকে প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়েছে।

ফোরামটি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো তদন্তের নির্দেশ দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু রিটার্নিং অফিসার টেকনিক্যাল ব্যাখ্যার আড়ালে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের আপিলগুলোকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা উচিত, তা না হলে নির্বাচনের বৈধতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ফোরামের দাবি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অব্যাহতি ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই; না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করা হলে নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপ কমবে এবং প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।

অন্যদিকে, কিছু সরকারি সূত্রের মতে, রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রযোজ্য আইন ও নিয়মাবলী অনুসারে কাজ করছেন এবং তাদের পদত্যাগের দাবি নির্বাচন প্রক্রিয়ার অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করলে নির্বাচনের সময়সূচি বিপর্যস্ত হতে পারে এবং ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, ফোরামের দাবি যদি নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করে, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পরিবর্তন প্রক্রিয়া দ্রুততর হতে পারে, তবে তা নির্বাচনের প্রস্তুতি সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, যদি কমিশন দাবি প্রত্যাখ্যান করে, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে চলমান বিতর্ক নির্বাচনকে অস্থির করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

ফোরামটি শেষ করে উল্লেখ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া কঠিন হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আহ্বান জানান, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments