বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ১৯ বছর পর বগুড়া সফরে যাচ্ছেন; সফরটি রোববার ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় পৌঁছাবে, রাতযাপন করবে এবং পরের দিন সকাল ১০টায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে গণদোয়া অনুষ্ঠিত হবে। সফরের মূল উদ্দেশ্য হল তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাতের প্রার্থনা করা এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানো।
রবিবার রাত বগুড়ায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমান শহরে রাতযাপন করবেন। সোমবার সকাল ১০টায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার মা ও খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গণদোয়া অনুষ্ঠিত হবে; এতে স্থানীয় ও জাতীয় স্তরের বহু নেতার অংশগ্রহণের কথা জানা গেছে।
গণদোয়ার পর তিনি বগুড়ার সাতমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালি এলাকায় অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.) মাজারে যাত্রা করবেন। মাজারে জিয়ারত শেষে তিনি রংপুরের দিকে রওনা হবেন, যেখানে তিনি জুলাই মাসে শহীদ আবু সাঈদের কবর পরিদর্শন করবেন।
বগুড়া সফরের সময় দলীয় সূত্র অনুযায়ী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঝুঁকি বিবেচনা করে সেসব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, তারেক রহমান রংপুরের পথে শিবগঞ্জের মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.) মাজারে জিয়ারত করবেন। এই সময় বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে তাকে স্বাগত জানানো হবে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে শিবগঞ্জের শেষ সীমানা রাহবাল পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন; তার মনোনয়নপত্র জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমানের দ্বারা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, মনোনয়নপত্রে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি এবং তাই তা সম্পূর্ণ বৈধ হিসেবে স্বীকৃত।
প্রতিপক্ষ দল, আওয়ামী লীগ, সফরটি নির্বাচনী সময়ে করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করেছে এবং বলেছে যে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নির্বাচনী কোড মেনে চলা। তবে তারা স্বীকার করেছে যে বগুড়া অঞ্চলে বিএনপির সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলেন, দীর্ঘ সময়ের পর তারেক রহমানের বগুড়া সফর তার পার্টির ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশল হতে পারে, বিশেষ করে বগুড়া-৬ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য। মাজারে জিয়ারত ও গণদোয়া মত ধর্মীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।
এই সফরটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে; আগামী সপ্তাহে তারেক রহমান রংপুরে পৌঁছে সেখানে আরও কয়েকটি ধর্মীয় ও স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন, যা তার রাজনৈতিক উপস্থিতি দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে বগুড়া ও রংপুরে তার উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের বগুড়া সফর ১৯ বছর পর তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মাজার জিয়ারত এবং স্থানীয় নেতাদের স্বাগত মিলেছে। সফরের সময়সূচি ও পরিকল্পনা নির্বাচনী কোডের সীমার মধ্যে রেখে পরিচালিত হয়েছে, এবং এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তার পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



