মোহাম্মেদ সিরাজের টেস্ট ও ওডি পারফরম্যান্সে কিছুটা অনিয়ম দেখা গেলেও, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক দলে তার উপস্থিতি দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ রয়েছে। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে তিনি অন্তর্ভুক্ত হননি, যা ডি ভিলিয়ার্সের মন্তব্যে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ডি ভিলিয়ার্সের মতে, সিরাজের বাদ পড়া দলীয় ভারসাম্য ও পেসারদের ভূমিকা নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফল। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সিরাজের পেশাদারিত্ব ও বোলিং গুণাবলী এখনও প্রশংসনীয়। এই প্রেক্ষাপটে সিরাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি।
সিরাজের সাম্প্রতিক ওডি পারফরম্যান্সে অনিয়মের চিহ্ন দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার সুযোগ কমে গেছে। শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি জুলাই ২০২৪-এ খেলা হয়, যেখানে তিনি মোট ১৬টি ম্যাচে ১৪টি উইকেট সংগ্রহ করেন এবং ওভারপ্রতি ৭.৭৯ রান দিয়ে গড়ে রাখেন। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা যায়, তিনি টি-টোয়েন্টি শৈলীতে এখনও কার্যকর হতে পারেন, তবে ধারাবাহিকতা তার পক্ষে কাজ করেনি। ওডি ও টেস্টে তার পারফরম্যান্সের তুলনায় টি-টোয়েন্টি ক্ষেত্রে তার উপস্থিতি কমে যাওয়া স্পষ্ট। ফলে নির্বাচনী কমিটি তাকে বিশ্বকাপের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সিরাজের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, যেখানে তিনি এখন পর্যন্ত ১০৮টি ম্যাচে ১০৯টি উইকেট নেন। এই পারফরম্যান্স তাকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অভিজ্ঞ বোলার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে মোট ১৬০টি ম্যাচে তিনি ১৮৩টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে। তবে IPL-এ তার গড় ইকোনমি ও উইকেটের সংখ্যা বিশ্বকাপের নির্বাচনে প্রধান ভূমিকা পালন করেনি। তাই তার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক দলে ফিরে আসা এখনো অনিশ্চিত।
গত মাসে সিরাজ দেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট, সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে হায়দরাবাদ দলের হয়ে চারটি ম্যাচে সাতটি উইকেট নেন। যদিও এই পারফরম্যান্সে কিছুটা উজ্জ্বলতা দেখা যায়, তবে তা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক দলে ফিরে আসার জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি। নির্বাচনী কমিটি তার এই পারফরম্যান্সকে পর্যাপ্ত নয় বলে বিবেচনা করেছে। ফলে সিরাজের টি-টোয়েন্টি দলে পুনরায় অন্তর্ভুক্তি এখনো মুলতুবি রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দল ১৫ জন খেলোয়াড়ের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে মাত্র তিনজন—জাসপ্রিত বুমরাহ, আরশদিপ সিং এবং হার্শিত রানা—নির্বাচিত হয়েছে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভাম দুবে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত। এই গঠনটি দলকে পেস ও স্পিনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে লক্ষ্য করেছে। পেসার সংখ্যা সীমিত থাকলেও, ব্যাটিং-ব্যাকআপের জন্য অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সিরাজের মতো শুধুমাত্র বোলারদের জন্য সুযোগ কমে গেছে।
হার্শিত রানা টি-টোয়েন্টি দলে নির্বাচিত হওয়ার প্রধান কারণ তার ব্যাটিং ক্ষমতা, যা সিরাজের তুলনায় বেশি মূল্যায়িত হয়েছে। ডি ভিলিয়ার্স উল্লেখ করেছেন, রানা পেসার হওয়ার পাশাপাশি মাঝারি ক্রমে রান তৈরি করতে সক্ষম, ফলে দলীয় ভারসাম্য রক্ষা হয়। সিরাজের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বোলিং দক্ষতা থাকায় তাকে ব্যাটিং বিকল্পের অভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ডি ভিলিয়ার্সের মতে, রানা বাছাইয়ের পেছনে এই দ্বৈত দক্ষতা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তাই সিরাজকে দুঃখজনকভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়েছে।
সিরাজকে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত ওডি সিরিজে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বাড়াবে। এই সিরিজে তার পারফরম্যান্স দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডি ভিলিয়ার্স বিশ্বাস করেন, সিরাজের ওডি অভিজ্ঞতা ও বোলিং ভ্যারাইটি দলকে অতিরিক্ত বিকল্প দেবে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার সুযোগ এখনও সীমিত। সিরাজের এই পুনরায় অন্তর্ভুক্তি তার ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে।
ডি ভিলিয়ার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পেসারদের তুলনায় স্পিনারদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, পেসারদের প্রাথমিক উইকেটকে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা মূলত স্পিনের ওপর নির্ভরশীল কৌশলের পরিপূরক। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সিরাজের মতো শুধুমাত্র বোলারদের জন্য সুযোগ কমে যায়। ডি ভিলিয়ার্সের মতে, যদি পেসাররা শুরুর দিকে উইকেট এনে দেয়, তবে তা দলীয় পরিকল্পনার একটি বোনাস হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে সিরাজকে দুঃখজনকভাবে বাদ দিতে হয়েছে, যদিও তার দক্ষতা স্বীকৃত।
সিরাজের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, তবে তার অভিজ্ঞতা ও IPL-এ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে পুনরায় টি-টোয়েন্টি দলে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রাখে। ডি ভিলিয়ার্সের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলীয় ভারসাম্য ও ব্যাটিং ক্ষমতা নির্বাচনের মূল মানদণ্ড। সিরাজ যদি ব্যাটিং দক্ষ



