জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ই‑ভ্যাট সিস্টেমে ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামের নতুন সাব‑মডিউল চালু করেছে। এই ব্যবস্থা ট্যাক্সদাতাদের পূর্বে কাগজে জমা দেওয়া মাসিক ভ্যাট রিটার্নগুলোকে নিজে অনলাইনে ইনপুট করার সুযোগ দেয়, ফলে পুরনো কাগজের ফাইলগুলোকে ডিজিটাল রেকর্ডে রূপান্তর করা সহজ হবে।
পূর্বে কাগজের রিটার্নগুলো ভ্যাট কমিশনারেটের সেন্ট্রাল প্রসেসিং সেন্টার (সিপিসি) এর মাধ্যমে ই‑ভ্যাটে যুক্ত করা হতো। সেই প্রক্রিয়ায় ডেটা এন্ট্রি কর্তা কর্মকর্তার ভুলের সম্ভাবনা বেশি থাকত, ফলে দায়িত্ব নির্ধারণে জটিলতা ও সময়সাপেক্ষতা দেখা দিত। নতুন মডিউল ট্যাক্সদাতাদেরকে সরাসরি ডেটা ইনপুটের অনুমতি দিয়ে এই সমস্যাগুলো কমিয়ে আনে।
এনবিআর জানিয়েছে, হার্ড কপি রিটার্নকে ই‑ভ্যাটে এন্ট্রি করার সময় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চললে কোনো জরিমানা বা সুদ আরোপ করা হবে না। ট্যাক্সদাতারা ই‑মেইল ও মোবাইল নোটিফিকেশনের মাধ্যমে লিংক পেয়ে সহজেই সাব‑মডিউলটি ব্যবহার করতে পারবেন।
এই সুবিধা ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত উপলব্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্বে জমা দেওয়া সব কাগজের রিটার্ন অনলাইনে এন্ট্রি করলে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক বা দেরি জরিমানা আরোপিত হবে না। সময়সীমা শেষ হলে বাকি রিটার্নগুলোকে অনলাইন ফরম্যাটে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না।
ডিজিটাল এন্ট্রি প্রক্রিয়া ট্যাক্সদাতাদের জন্য সময় ও শ্রমের সাশ্রয় ঘটাবে। ম্যানুয়াল ডেটা এন্ট্রি কমে যাওয়ায় ভ্যাট কর্মকর্তাদের কাজের চাপ হ্রাস পাবে এবং রেকর্ডের সঠিকতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে রিটার্ন সংশোধন বা দায়িত্ব নির্ধারণে উদ্ভূত বিরোধের সম্ভাবনা কমে যাবে।
ব্যবসা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত রিটার্ন প্রক্রিয়াকরণ নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কোম্পানিগুলো আর কাগজের ফাইল জমা ও পুনঃপ্রক্রিয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে না, ফলে প্রশাসনিক খরচ কমে যাবে। এছাড়া, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে রিফান্ড ও পেমেন্টের সময়সীমা সংক্ষিপ্ত হবে, যা বাজারের তরলতা বাড়াবে।
এনবিআরের এই পদক্ষেপ সরকারী ই‑ফিসক্যাল রূপান্তরের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। স্বচ্ছ ও দ্রুত ট্যাক্স সংগ্রহের পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিজিটাল ট্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়ন ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
তবে, স্ব-এন্ট্রি মডিউল চালু হওয়ায় ট্যাক্সদাতাদের দায়িত্ব বাড়বে। তথ্য ভুল হলে সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হতে পারে, এবং ভুল তথ্যের জন্য শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকবে। তাই সঠিক ডেটা ইনপুটের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
মেয়াদ শেষের পর সব রিটার্ন অনলাইন ফরম্যাটে জমা দিতে হবে, ফলে ভ্যাট ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ডিজিটালায়ন নিশ্চিত হবে। এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াবে এবং করদাতাদের জন্য একক, স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্মে সেবা প্রদান করবে।
এনবিআর উল্লেখ করেছে, নতুন সাব‑মডিউল চালু করার মাধ্যমে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। ট্যাক্সদাতাদের সহযোগিতা চেয়ে সংস্থা আশা করে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন দ্রুত এগিয়ে যাবে।



