রবিবার, ৪ জানুয়ারি, প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্ট ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় কমিয়ে আনার পরেও অতিরিক্ত চাপ আরোপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি হ্রাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই মন্তব্যটি আসে এমন সময়ে যখন ওয়াশিংটন রাশিয়া-ভারত জ্বালানি সম্পর্কের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নজরদারি বাড়িয়ে তুলেছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে “খুব ভালো মানুষ” বলে প্রশংসা করেন, তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে ইচ্ছুক নয় বলে স্পষ্ট করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মোদি জানেন তিনি সন্তুষ্ট নন এবং তার সন্তুষ্টি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের মতে, ভারত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা মেটাতে তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, যদিও রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। ভারত দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে যে, দেশের বিশাল জনসংখ্যার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে তেল সংগ্রহ করা অপরিহার্য। তবে সাম্প্রতিক ফোনালাপে দু’দেশের নেতারা বাণিজ্যের গতি বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা করেছেন, তবু বাস্তবিক টানাপোড়েন কমেনি।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক আক্রমণের পর বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব তেলের প্রায় ১৭ শতাংশ এখন ভেনেজুয়েলার হাতে, যা যুক্তরাষ্ট্রের তেল নীতি ও ভারতসহ বড় আমদানিকারকদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় পুনরায় বাড়াতে বাধ্য করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করে, তবে ভারতকে বিকল্প সরবরাহের সন্ধান করতে হবে, যা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে পুনরায় উষ্ণ করতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভারত-চীন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ চীনও ভারতের তেল সরবরাহের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
ভারত সরকার ইতিমধ্যে রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তবে ট্রাম্পের নতুন সতর্কতা দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এখনো পরিবর্তনশীল। ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, তা দু’দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকি ভারতকে তেল সরবরাহের বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং এশিয়ার অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করতে পারে। একই সঙ্গে, রাশিয়া-ভারত জ্বালানি চুক্তি পুনরায় সক্রিয় হলে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং ভারতের তেল সংগ্রহের কৌশল দু’টি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়াবে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে। উভয় দেশই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় রাখবে বলে আশা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের শুল্কের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে, যেখানে তেল বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দ্বিপক্ষীয় চাপ ও সমঝোতার সম্ভাবনা উভয়ই বিদ্যমান। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা আন্তর্জাতিক বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



