ফারহাদ সামজি, যিনি ব্যাচ্চান পাণ্ডে, কিসি কা ভাই কিসি কি জান এবং হাউসফুল ৪ মতো বাণিজ্যিক হিটের পরিচালক হিসেবে পরিচিত, এখন সাবেক পুলিশ ইন্সপেক্টর সুবাশ শিন্ডের ক্রিকেট কীর্তি ভিত্তিক চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট ও সংলাপ রচনায় যুক্ত হয়েছেন। এই প্রকল্পটি ‘সাফেদ খাকি’ নামের বইকে চলচ্চিত্রে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা, যেখানে শিন্ডের পুলিশ ক্যারিয়ার ও ক্রিকেট সাফল্য একসঙ্গে তুলে ধরা হবে। ফারহাদ সামজির এই নতুন দিকটি তার পূর্বের কমেডি‑ড্রামা শৈলীর থেকে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।
ফারহাদ সামজি এবং তার ভাই সজিদ সামজি একসঙ্গে ‘সিংহাম’, ‘বোল বাচ্চান’, ‘হাউসফুল ২’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ ইত্যাদি হিট চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লিখে বাংলা ও হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে ছাপ ফেলেছেন। পরিচালক হিসেবে তিনি ‘বাচ্চান পাণ্ডে’, ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’, ‘হাউসফুল ৪’ ইত্যাদি ছবিতে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। এখন তিনি তার সৃজনশীল দিগন্তকে বায়ো‑স্পোর্টস ধারায় প্রসারিত করছেন, যা তার ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক হতে পারে।
‘সাফেদ খাকি’ বইটি সাবেক পুলিশ ইন্সপেক্টর সুবাশ শিন্ডের কন্যা আথার্ভা শিন্ডের রচনায় প্রকাশিত, যেখানে তার পিতার পুলিশ ও ক্রিকেট উভয় ক্ষেত্রের অবদান বর্ণিত হয়েছে। আথার্ভা শিন্ড পূর্বে উল্লেখ করেন যে, নিশিকান্ত কামত, যিনি ‘মুম্বাই মেরি জান’ ও ‘দ্রিশ্যাম’ চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত, এক সময় এই গল্পটি চলচ্চিত্রে রূপান্তর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে ২০২০ সালে তার অকাল মৃত্যুর পর প্রকল্পটি স্থবির হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ফারহাদ সামজি এবং পিয়ুষ সিংহ এই প্রকল্পে যুক্ত হয়ে স্ক্রিপ্ট ও সংলাপের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আথার্ভা শিন্ড প্রকাশ্যে জানান যে, ফারহাদ সামজির অংশগ্রহণে তিনি গভীর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা অনুভব করছেন। এছাড়া, মারাঠি সিনেমার প্রখ্যাত গীতিকার নিতিন রামেশ তেন্ডুলকার, যিনি ক্রিকেটের কিংবদন্তি সাচিন তেন্ডুলকারের বড় ভাই, চলচ্চিত্রের গানের রচয়িতা হিসেবে কাজ করবেন।
সুবাশ শিন্ডের পুলিশ ক্যারিয়ার চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মহারাষ্ট্র পুলিশ, বিশেষত ক্রাইম ব্রাঞ্চে বিস্তৃত। তার যুবক বয়সে তিনি ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া বোম্বে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন‑মাফাতলাল বোলিং স্কিমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, যা তার ক্রিকেট দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এই প্রশিক্ষণের পর তিনি পুলিশ কর্মে ফিরে এসে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিবেদিত থাকেন, একই সঙ্গে ক্রিকেটের প্রতি তার উত্সাহ অব্যাহত রাখেন।
২০১১ সালের ১১ নভেম্বর, শিন্ড নাভি মুম্বাই রুরাল এলাকায় একটি পুলিশ ক্রিকেট দল গঠন করেন, যা শূন্য থেকে শুরু করে দ্রুতই মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) ও রাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাফল্য অর্জন করে। দলটি টাইমস শিল্ড, গভার্নমেন্ট শিল্ড, ডি.ওয়াই. পাটিল টুর্নামেন্ট, কাঙ্গা লিগ, কুরলা বাপত টুর্নামেন্ট, থানে বৈভব টুর্নামেন্টসহ এমসিএ-সংযুক্ত অফিস ও কর্পোরেট ইভেন্টে বহু বিজয় অর্জন করে। এই সাফল্যগুলো শিন্ডের নেতৃত্বে পুলিশ কর্মীদের মধ্যে দলগত মনোভাব ও শারীরিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
চলচ্চিত্রটি শিন্ডের পুলিশ ও ক্রিকেট উভয় ক্ষেত্রের জীবনের সমন্বয় ঘটিয়ে তার অনন্য কাহিনীকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফারহাদ সামজির স্ক্রিপ্টিং ও সংলাপের দক্ষতা, পাশাপাশি নিতিন রামেশ তেন্ডুলকারের সুরের সংযোজন, এই প্রকল্পকে বায়ো‑স্পোর্টস জেনারের নতুন দৃষ্টান্তে পরিণত করতে পারে।
ফারহাদ সামজির এই পদক্ষেপ তার সৃজনশীল পরিসরকে বিস্তৃত করার পাশাপাশি, বাস্তব জীবনের অনুপ্রেরণামূলক গল্পকে বড় পর্দায় তুলে ধরার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। দর্শকরা শিন্ডের ন্যায়বিচার ও ক্রীড়া সাফল্যের মিশ্রণকে এক নতুন রূপে উপভোগ করার সুযোগ পাবে।



