27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধজাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে বিদেশি মদ ২১ বোতল জব্দ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে বিদেশি মদ ২১ বোতল জব্দ

রাত ৯টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল (JU) এর একটি কক্ষে গৃহে গোপনভাবে সংরক্ষিত বিদেশি মদ ২১ বোতল জব্দ করা হয়। হালের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুর রজাকের নির্দেশে গৃহে অনুসন্ধান চালানো হয় এবং মদদ্রব্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, টেবিলের লকারের ভিতরে একারোটি বোতল লুকানো ছিল, আর বেডের নিচে আর নয়টি পাওয়া যায়। বাকি তিনটি বোতল কক্ষের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে ছিল, যা পরে সংগ্রহ করা হয়।

বন্দি করা মদদ্রব্যের সবগুলোই বিদেশি লিকার, যা বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালার অধীনে নিষিদ্ধ। জব্দকৃত বোতলগুলোকে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তী তদন্তের জন্য রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বন্দি করা মদদ্রব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রভোস্ট রজাক জানান, জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত ছাত্রটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের বাসিন্দা নয়, বরং মীর মোশাররফ হোসেন হলের অধিবাসী।

শিক্ষার্থীর রুম নম্বর ও বাসস্থান যাচাই করার পর দেখা যায়, তিনি মীর মোশাররফ হোসেন হলের নির্দিষ্ট কক্ষে বসবাস করেন। তাই তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টের অধীনে হবে।

শিক্ষার্থী দাবি করেন, তিনি মদদ্রব্যটি তার নিজস্ব গৃহ জেলা জামালপুরের সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় সংগ্রহ করে কক্ষে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি, তবে তার কথার ভিত্তিতে তদন্তের দিকনির্দেশনা পরিবর্তিত হয়।

প্রভোস্ট রজাক জোর দিয়ে বলেন, যেহেতু শিক্ষার্থীটি নজরুল ইসলাম হলের বাসিন্দা নয়, তাই বিষয়টি মীর মোশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্টের কাছে পাঠানো হবে যথাযথ শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জন্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মদদ্রব্যের সংরক্ষণ ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি, সাময়িক বরখাস্ত বা একাডেমিক সেজে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে। এছাড়া, যদি মদদ্রব্যের উৎস বা পরিবহন প্রক্রিয়ায় কোনো অবৈধ কার্যক্রম প্রকাশ পায়, তবে আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

অধিক তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা বিভাগ ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয় সাধন করা হবে। জব্দকৃত মদদ্রব্যের বিশ্লেষণ, সংগ্রহের স্থান ও সম্ভাব্য সরবরাহ চেইন নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মদদ্রব্যের ব্যবহার ও সংরক্ষণে সতর্কতা বৃদ্ধি করার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে, হালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি ও র‌্যান্ডম চেকের ব্যবস্থা করা হবে।

বিষয়টি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটির নজরে রয়েছে এবং শৃঙ্খলা কমিটি শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ধারণের জন্য বৈঠক করবে। শাস্তি নির্ধারণের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং শিক্ষার্থীর অধিকার সংরক্ষণে আপিলের সুযোগ থাকবে।

এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মদদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ ও ব্যবহার সম্পর্কে একটি সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments