গাজীপুর‑২ আসনের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি এবং তার স্বতন্ত্র প্রার্থী স্ত্রী তাপসী তন্ময় চৌধুরীর সম্পদ‑ঋণ সংক্রান্ত হলফনামা প্রকাশিত হয়েছে। উভয় প্রার্থীর মোট ঘোষিত সম্পদ প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি, তবে তাদের ঋণ দায় ১৪০ কোটি টাকারও বেশি। এই তথ্যগুলো নির্বাচনী কমিশনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সোমবার জমা দেওয়া হয়।
হলফনামা অনুযায়ী, রনি প্রার্থীর মোট সম্পদ ৩৮ কোটি ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ৬০৬ টাকা, যেখানে তার বার্ষিক আয় ৯,৪১,২৭৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রীর সম্পদ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮,৭৮৪ টাকা, এবং বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
রনি প্রার্থী আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে প্রায় ১৪০ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঋণ গ্রহণ করেছেন, যা গত ১০ ডিসেম্বর পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এই ঋণ তার মালিকানাধীন এভালন এভিয়েশন লিমিটেড ও ফস্টার ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে নেওয়া হয়েছে। তাপসী তন্ময় চৌধুরীর নামে কোনো ঋণ তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
নগদ সম্পদের ক্ষেত্রে রনি প্রার্থীর হাতে ২৩ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার ৫০৮ টাকা নগদ রয়েছে, তবে ব্যাংকে মাত্র ৮০,৬৬১ টাকা জমা আছে। তার স্বতন্ত্র প্রার্থী স্ত্রীর নগদ ২৫ লাখ ৪০ হাজার ৬২১ টাকা, এবং ব্যাংক জমা আট হাজার ১৬৩ টাকা।
রনি প্রার্থীর সাতটি কোম্পানিতে মোট পাঁচ লাখ পঞ্চাশশোটি শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য পাঁচ কোটি পঞ্চাশ হাজার টাকা নির্ধারিত। এছাড়া তিনি এক লাখ বিশ হাজার টাকার আসবাবপত্র, পঞ্চাশ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ত্রিশ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার একটি গাড়ি তালিকাভুক্ত করেছেন।
স্ত্রীর সম্পদে পাঁচটি কোম্পানিতে এক লাখ তেইশ হাজারটি শেয়ার রয়েছে, যার মোট মূল্য এক কোটি তেইশ লাখ টাকা। তার কাছে এক লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, একই পরিমাণের আসবাবপত্র এবং এক কোটি একশত একশো হাজার টাকার মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে।
হলফনামায় রনি প্রার্থীর কোনো কৃষিজমি সম্পত্তি উল্লেখ করা হয়নি, তবে গাজীপুরের অন্যান্য ব্যবসায়িক সম্পদ তার মালিকানায় রয়েছে। তার স্বতন্ত্র প্রার্থী স্ত্রীর সম্পদে কোনো কৃষিজমি উল্লেখ নেই।
এই হলফনামা জমা দেওয়ার সময় গাজীপুর-২ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলিও তাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রনি ও তার স্ত্রীর ঋণ পরিমাণ সম্পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।
প্রতিবাদী দলগুলো রনি প্রার্থীর ঋণ দায়ের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, রনি দলের প্রতিনিধিরা বলছেন যে ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আর্থিক দায় স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি নির্বাচনী যোগ্যতার কোনো বাধা নয়।
গাজীপুর-২-এ শীঘ্রই ভোটের দিন আসার সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পদ‑ঋণ তথ্যের বিশ্লেষণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং নির্বাচনী কমিশনের তত্ত্বাবধানে সকল প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।



