গতকাল জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমের প্রথম ধাপ চালু হওয়ার পর দেশের বহু মোবাইল ব্যবহারকারী নেটওয়ার্কে সংযোগ স্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। একই সঙ্গে, ব্যবহারকারীদের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বড় সংখ্যক হ্যান্ডসেটকে জাতীয় পরিচয় নম্বর (NID) এর সঙ্গে নিবন্ধিত দেখার অভিযোগও উঠে এসেছে।
কুরিগ্রামের এক মোবাইল ব্যবহারকারী জানান, তিনি গতকাল সকাল থেকে তার ফোন ব্যবহার করতে পারছেন না, যদিও পূর্বে একটি এসএমএসে জানানো হয়েছিল যে তার ডিভাইস NEIR ডাটাবেজে রেজিস্টার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফোনটি তিনি গত বছর নভেম্বর ৮ তারিখে কিনেছিলেন এবং বর্তমানে একই সিম অন্য একটি ফোনে ব্যবহার করছেন।
মোবাইল অপারেটরদের মতে, একই সমস্যার সম্মুখীন হাজার হাজার গ্রাহক রয়েছে। তারা জানান, NEIR সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণে কিছু ডিভাইসের সংযোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ব্যবহারকারীরা সেবা পেতে অক্ষম হচ্ছেন।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. এমদাদ উল বরি জানান, এখন পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং একটি প্রযুক্তিগত দল সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ব্যাঘাতের মূল কারণ দুটি।
প্রথমত, ৩১ ডিসেম্বরের শেষ তারিখে দশটির বেশি সংযোগ থাকা ব্যবহারকারীদের সিম ডি-রেজিস্টার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মোট ৯০ লক্ষ সিম এই শর্তে চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ লক্ষ সিম ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, আর বাকি ১০ লক্ষ সিমের নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া চলমান।
দ্বিতীয়ত, সিস্টেমে একই আন্তর্জাতিক মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (IMEI) নম্বরের অধীনে বিপুল সংখ্যক হ্যান্ডসেট রেজিস্টার পাওয়া গেছে। ফলে, ঐ IMEI ব্যবহার করে নতুন সংযোগের অনুরোধ সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করে দিচ্ছে। এই ডুপ্লিকেশন সমস্যা সংযোগের ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন, প্রযুক্তিগত দল দ্রুত সমস্যার মূল খুঁটি চিহ্নিত করে সমাধান কার্যকর করবে এবং শীঘ্রই সেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বাধা না দেখা যায়।
রোবি অক্ষয়াটার চিফ কর্পোরেট অফিসার শাহেদ আলম জানান, NEIR চালুর পর কিছু গ্রাহকের নেটওয়ার্কে প্রবেশে অসুবিধা দেখা দিয়েছে। তিনি যোগ করেন, রোবি বিটিআরসি এবং NEIR প্রযুক্তি অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় ও সমাধান করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এই ঘটনা প্রযুক্তি খাতে নতুন সিস্টেমের সূচনার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা বাড়িয়েছে। NEIR এর লক্ষ্য হল মোবাইল ডিভাইসের বৈধতা নিশ্চিত করা এবং সিমের অপব্যবহার রোধ করা, তবে বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে ডেটা মেলানো ও ডুপ্লিকেশন চেকের যথাযথতা নিশ্চিত না হলে ব্যবহারকারীর সেবা ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ভবিষ্যতে ডেটা মাইগ্রেশন ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ব্যবহারকারীকে সময়মত স্পষ্ট তথ্য প্রদান করা উচিত। এভাবে সিস্টেমের স্বচ্ছতা ও ব্যবহারকারীর আস্থা বজায় রেখে নতুন প্রযুক্তি সফলভাবে চালু করা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে, NEIR সিস্টেমের প্রথম ধাপের সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ব্যবহারকারীর সেবা পুনরুদ্ধার ও সিস্টেমের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।



