ভেনেজুয়েলার সর্বোচ্চ আদালত রোববার ঘোষণা করেছে যে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে দেশের কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৯০ দিনের জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সমর্থন যুক্ত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সেই সপ্তাহের শনিবার রাতে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সশস্ত্র বাহিনীর একটি অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সূত্র অনুযায়ী, দম্পতি বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছে।
অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর, রোববার সকালে ভেনেজুয়েলার সর্বোচ্চ আদালত দেলসি রদ্রিগুয়েজকে স্বল্পমেয়াদী কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণাপত্র জারি করে। আদালতের এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নেতৃত্বের শূন্যতা মোকাবিলার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেন।
সেই একই দিনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ টেলিভিশনে একটি সরাসরি সম্প্রচারে এই ঘোষণার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, “সর্বোচ্চ আদালত দেলসি রদ্রিগুয়েজকে ৯০ দিনের জন্য কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনী এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমি দেশের সাধারণ নাগরিকদের অনুরোধ করছি যেন তারা তাদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।”
দেলসি রদ্রিগুয়েজের এই স্বীকৃতি দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে সংবিধানিক প্রক্রিয়ার বৈধতা হিসেবে স্বীকার করেছে, আর অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সন্দেহ প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এই ঘটনার ওপর বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি মাদুরো ও ফ্লোরেসের গ্রেপ্তার সত্যি হয়, তবে এটি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য গভীর পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
দেলসি রদ্রিগুয়েজের কার্যনির্বাহী মেয়াদে তিনি যে নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তা দেশের অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রা অবমূল্যায়ন এবং সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন নিশ্চিত করা হলে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
অন্যদিকে, মাদুরো ও ফ্লোরেসের অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে থাকবে। নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে তাদের আটক থাকার তথ্যের ভিত্তিতে, মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা তাদের ন্যায়সঙ্গত বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে বলছেন, দেলসি রদ্রিগুয়েজের স্বীকৃতি দেশের সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে একটি অস্থায়ী সমাধান হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যাবে না।
সামরিক বাহিনীর সমর্থন ও সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও, দেশের অভ্যন্তরে কিছু গোষ্ঠী এখনও বিদ্রোহী মনোভাব প্রকাশ করে। তারা দাবি করে যে, প্রেসিডেন্টের বৈধতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া নিশ্চিত করা যায় না।
দেলসি রদ্রিগুয়েজের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হলে, দেশের অভ্যন্তরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা, তা এখনই প্রশ্নের মুখে।
এই ঘটনাগুলো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর প্রভাব কীভাবে বিকশিত হবে, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে।



