22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদন২০২৫ সালে চীনের সিনেমা হলের আয় ২০% বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৪১ বিলিয়ন ডলার

২০২৫ সালে চীনের সিনেমা হলের আয় ২০% বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৪১ বিলিয়ন ডলার

চীনের সিনেমা হলের মোট টিকিট বিক্রি ২০২৫ সালে গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ে, এবং বার্ষিক আয় ৭.৪১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫১.৮৩ বিলিয়ন ইউয়ান) পৌঁছায়। এই উত্থানটি দেশের বিনোদন বাজারে পুনরুজ্জীবনের স্পষ্ট চিহ্ন, যেখানে দর্শকের সংখ্যা এবং ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৪ সালে চীনের বক্স অফিসে ২৩ শতাংশের বেশি পতন দেখা গিয়েছিল, মোট আয় মাত্র ৫.৮ বিলিয়ন ডলার। সেই কঠিন সময়ের পর ২০২৫ সালে আয় পুনরায় উঁচুতে ওঠা, শিল্পের পুনরুদ্ধারের শক্তি প্রকাশ করে।

বিশেষ করে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রগুলো এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। মাওইয়ান এন্টারটেইনমেন্টের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৫৭টি অ্যানিমেটেড ছবি ৩.৫৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫ বিলিয়ন ইউয়ান) আয় করে, যা পুরো বছরের বিক্রয়ের প্রায় অর্ধেকের সমান।

দেশীয় অ্যানিমেশন হিট ‘নেজা ২’ চীনের লুনার নিউ ইয়ারের সময় একক দিনে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে রেকর্ড ভাঙে। এই বিশাল আয় দেশের ঐতিহ্যবাহী পৌরাণিক কাহিনীর আধুনিক রূপান্তরকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়।

ডিজনির ‘জুটোপিয়া ২’ ডিসেম্বর মাসে মুক্তি পেয়ে ৫৫৮.৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে বছরের শেষকে উজ্জ্বল করে। হালকা-হাস্যকর গল্প এবং প্রাণবন্ত চরিত্রগুলো চীনা দর্শকের হৃদয় জয় করে, যা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়।

উভয় ব্লকবাস্টারই উচ্চ পুনরায় দেখার হার এবং দৃঢ় ফ্যান বেসের সুবিধা পেয়েছে। দর্শকরা একবার দেখার পরেও আবার সিনেমা হলের সিটে বসে গল্পের জগতে ডুবে যাওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছে, যা টিকিট বিক্রয়ের গড়কে উপরে তুলেছে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অ্যানিমেটেড ছবির মধ্যে স্থানীয় হিট ‘নোবডি’ রয়েছে, যা প্রায় ১.৭৬ বিলিয়ন ইউয়ান (২৪৫ মিলিয়ন ডলার) আয় করেছে। এই চলচ্চিত্রের সাফল্য স্থানীয় সৃষ্টিকর্তাদের সৃজনশীলতা ও বাজারের চাহিদার সমন্বয়কে তুলে ধরে।

জাপানি অ্যানিমে ‘ডেমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি ক্যাসল’ ৬৭৫ মিলিয়ন ইউয়ান (৯৫.৬ মিলিয়ন ডলার) আয় করে, তবে চীন-জাপান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে শীঘ্রই থিয়েটার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কন্টেন্টের স্থানীয় বাজারে চলমান ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

বাজারের গঠনেও পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২৫ সালে দেশীয় চলচ্চিত্রগুলো মোট বক্স অফিসের ৭৯.৬৭ শতাংশ দখল করে, যা পূর্ব বছরের তুলনায় এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উচ্চ শেয়ার দেশীয় উৎপাদনের শক্তিশালী অবস্থানকে নিশ্চিত করে।

অবশিষ্ট প্রায় ২০ শতাংশের মধ্যে হলিউডের বড় বাজেটের ছবি এবং জাপানি অ্যানিমে অন্তর্ভুক্ত। যদিও বিদেশি কন্টেন্টের অংশ কমে গেছে, তবু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের আকর্ষণ এখনও উল্লেখযোগ্য।

মোট সিনেমা দর্শকসংখ্যা ১.২৪ বিলিয়ন অতিক্রম করেছে, যা বছরের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দর্শকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের গড় মূল্যও স্থিতিশীল থাকায় মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বৃদ্ধির গতি বিশেষ করে চীনের তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের শহরগুলোতে স্পষ্ট। এই শহরগুলোতে নতুন থিয়েটার, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং স্থানীয় দর্শকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিলিয়ে বাজারের বিস্তার ঘটেছে।

সামগ্রিকভাবে, অ্যানিমেশন শিল্পের উত্থান এবং তৃতীয়-চতুর্থ স্তরের শহরের সক্রিয় অংশগ্রহণ চীনের সিনেমা শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় কন্টেন্ট এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments