জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিসি) গত সন্ধ্যায় জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জমা দেওয়া ২,৫৬৮টি মনোনয়ন পত্রের মধ্যে ৭২৩টি রিটার্নিং অফিসারদের পর্যবেক্ষণে বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী তালিকায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে এবং প্রার্থীদের জন্য আপিলের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে।
ইসিসি পাবলিক রিলেশনস অফিসার রুহুল আমিন মোল্লিক এই সংখ্যা প্রকাশের সময় উল্লেখ করেন, শেষ তিনটি নির্বাচনী এলাকায় মৃত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নামে জমা দেওয়া মনোনয়ন পত্রগুলোকে মোট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া, যিনি সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন, তার নাম ব্যবহার করে করা আবেদনগুলোকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া মনোনয়নের বেশিরভাগই স্বাধীন প্রার্থীদের দিক থেকে এসেছে। ইসিসি অনুসারে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটার স্বাক্ষরের অনুপস্থিতি বা অসামঞ্জস্যই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তাদের নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যার অন্তত এক শতাংশের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়, যা না হলে মনোনয়ন পত্র বৈধ গণ্য হয় না।
স্বাধীন প্রার্থীদের জন্য এই স্বাক্ষর শর্তটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত। তবে বাস্তবে অনেক প্রার্থী প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহে সমস্যার সম্মুখীন হন, ফলে তাদের আবেদন বাতিলের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনী তালিকায় স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরের সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
স্বাক্ষর সংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি, ইসিসি অন্যান্য ত্রুটিকেও বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিছু আবেদনপত্রে অ্যাফিডেভিটের তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ ছিল, অন্যদিকে কিছু প্রার্থীর আর্থিক দায়বদ্ধতা, ঋণ ডিফল্ট বা দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এসব irregularities-কে ভিত্তি করে রিটার্নিং অফিসাররা সংশ্লিষ্ট পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
মনোনয়ন পত্রের স্ক্রুটিনি ৩০ ডিসেম্বর শুরু হয় এবং গতকাল শেষ হয়। এই সময়কালে ইসিসি সকল আবেদনপত্রের বৈধতা, স্বাক্ষরের যথার্থতা এবং প্রার্থীর পটভূমি যাচাই করে। স্ক্রুটিনির সমাপ্তি সঙ্গে সঙ্গে বাতিলের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে প্রার্থীরা দ্রুত আপিলের প্রস্তুতি নিতে পারে।
বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল দাখিলের শেষ তারিখ ৯ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। প্রার্থীরা এই সময়সীমার মধ্যে ইসিসি-তে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করতে পারবেন। আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, ইসিসি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সকল আপিলের ফলাফল জানাবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাধীন প্রার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পাবে, যা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই নিজেদের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। বিশেষ করে, স্বাধীন প্রার্থীদের ঘাটতি কিছু নির্বাচনী জায়গায় বড় দলগুলোর প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইসিসি এই পদক্ষেপকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা ও আইনি মানদণ্ডের প্রতি অটল থাকার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কমিশন জোর দিয়ে বলেছে, সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের বিশ্বাস বজায় রাখতে এই ধরনের কঠোর স্ক্রুটিনি প্রয়োজনীয়।
নির্বাচনের শেষ দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, ইসিসি এখনো নির্বাচনী তালিকায় চূড়ান্ত পরিবর্তন, ভোটার তালিকা আপডেট এবং নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের নিয়মাবলী নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ভোটারদের জন্য সচেতনতা কর্মসূচি এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হবে, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।



