নভেম্বরের শেষ রবিবার নোভাক ডজিচেভিচ টেনিসের পেশাদার খেলোয়াড়দের সংস্থা (PTPA) থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থার ওপর অব্যাহত উদ্বেগের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জানালেন, ভবিষ্যতে নিজের টেনিস, পরিবার এবং খেলাটির উন্নয়নে নিজের নীতি ও সততার সাথে কাজ চালিয়ে যাবেন।
PTPA ২০২০ সালে ডজিচেভিচ এবং কানাডিয়ান টেনিসার ভাসেক পসপিসিলের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থার মূল লক্ষ্য ছিল খেলোয়াড়দের জন্য স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর গড়ে তোলা, যাতে তারা টুর্নামেন্টের সময়সূচি, পুরস্কার বিতরণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করতে পারে। তবে সংস্থার অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থার প্রশ্নগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তীব্রতর হয়ে ওঠে।
মার্চ ২০২৫-এ PTPA টেনিসের প্রধান শাসন সংস্থা ATP ও WTA-কে লক্ষ্য করে আইনি পদক্ষেপ নেয়। সংস্থা অভিযোগ করে যে এই শাসন সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতাকে সীমাবদ্ধ করে এমন শর্ত আরোপ করে এবং খেলোয়াড়দের ওপর অনুপযুক্ত চাপে কাজ করে। একই সঙ্গে তারা টুর্নামেন্টের সময়সূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, যেখানে পুরুষ ও নারী উভয় টুর্নামেন্টই বছরে ১১ মাস ধরে চলে, ফলে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সময় কমে যায়।
ডজিচেভিচের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় বিবেচনা করার পর আমি PTPA থেকে সম্পূর্ণ সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “স্বচ্ছতা, শাসনব্যবস্থা এবং আমার কণ্ঠস্বর ও চিত্রের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে চলমান উদ্বেগ আমাকে এই সিদ্ধান্তে বাধ্য করেছে।” তার কথায় স্পষ্ট যে, সংস্থার বর্তমান দিকনির্দেশনা তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ডজিচেভিচ সংস্থার প্রতিষ্ঠার সময় যে দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নিয়েছিলেন, তা তিনি এখনও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ভাসেক ও আমি যখন PTPA গড়ে তুলি, তখন খেলোয়াড়দের জন্য একটি শক্তিশালী, স্বাধীন কণ্ঠস্বর তৈরি করার লক্ষ্য ছিল।” তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দেয় যে, তার এবং সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ বেড়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর ডজিচেভিচ তার টেনিস ক্যারিয়ার ও পারিবারিক জীবনে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার টেনিস, পরিবার এবং খেলাটির উন্নয়নে এমনভাবে অবদান রাখতে চাই, যা আমার নীতি ও সততার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” তার এই বক্তব্য তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট দিক নির্দেশ করে।
ডজিচেভিচ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে তিনি ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি জানুয়ারি ১২ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত ATP টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। এই ইভেন্টটি নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডজিচেভিচের এই পদক্ষেপ টেনিস জগতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার প্রস্থান সংস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে আরও উন্মোচিত করেছে এবং খেলোয়াড়দের স্বায়ত্তশাসন ও শাসনব্যবস্থার ওপর নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে PTPA কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে এবং খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষায় কী ধরনের কাঠামো গড়ে তুলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ডজিচেভিচের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রস্তুতি এবং অ্যাডিলেডে অংশগ্রহণের সময়সূচি তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপের সূচক। তিনি এই মৌসুমে নিজের পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কঠোর প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার লক্ষ্য কেবল নতুন শিরোপা জয় নয়, বরং টেনিসের উন্নয়নে নিজের নীতি ও সততা বজায় রেখে অবদান রাখা।



