রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে রবিবার একাধিক ড্রোন একসঙ্গে আকাশে প্রবেশ করে, যার ফলে শহরের চারটি প্রধান বিমানবন্দরের মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। রাশিয়ার সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক রোসাভিয়াতসিয়া এবং মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন উভয়ই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
ড্রোন হামলার ফলে মস্কোর দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর ভনুকোভোসহ অন্যান্য ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব দেখা যায়। রাশিয়ান গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, এই বিমানবন্দরগুলোতে চলাচল বন্ধের সময়কাল গ্রিনিচ মান সময় (GMT) দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ছিল।
রোসাভিয়াতসিয়ার মুখপাত্র আরতেম কোরেনিয়াকো টেলিগ্রাম মাধ্যমে জানিয়েছেন, বিমানবন্দরগুলো বন্ধের সময়কালে সব উড্ডয়ন কার্যক্রম থামানো হয়। তবে একই চ্যানেলে তিনি উল্লেখ করেন, ভনুকোভো, ডোমোডেডোভো এবং ঝুকোভস্কি বিমানবন্দর এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের মতে, রবিবারের আকাশে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত ২৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে ধ্বংস করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ড্রোনগুলো শহরের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল, তবে রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সেগুলোকে সফলভাবে বাধা দেয়।
২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে, রাশিয়া বহুবার তার বায়ুক্ষেত্র বন্ধ করেছে। এই ধরনের বন্ধের পেছনে মূলত ইউক্রেনের ড্রোন আক্রমণকে প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়, যা রাশিয়ার বাণিজ্যিক ও সামরিক উড্ডয়নকে প্রভাবিত করে।
সেইসাথে রাশিয়ার বেলগোরোডে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আক্রমণে একটি পারিবারিক গাড়ি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। রোববার ভোরে ঘটিত এই ঘটনার ফলে একজন ব্যক্তি নিহত এবং চার বছরের একটি শিশুসহ দুইজন আহত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আক্রমণটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার একটি অংশ।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের নতুন মাত্রা নির্দেশ করে। ইউক্রেনের ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার মূল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা, বিশেষ করে রাজধানীর বিমানবন্দরগুলো, যুদ্ধের গতি পরিবর্তন করতে পারে। ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই ধরনের সমন্বিত আক্রমণকে রাশিয়ার বায়ু নিরাপত্তা নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যানা পেট্রোভা বলেন, “মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ড্রোনের আক্রমণ রাশিয়ার বায়ু সুরক্ষা কৌশলে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়ার উচিত ড্রোন সনাক্তকরণ ও প্রতিহত করার প্রযুক্তি উন্নত করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ থেকে নাগরিক ও বাণিজ্যিক উড্ডয়ন রক্ষা করা যায়।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, রাশিয়া এই ঘটনার পর তার বায়ু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ড্রোন ব্যবহার সংক্রান্ত নীতি নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায়, ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত আকাশীয় আক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়ার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরগুলোর সম্পূর্ণ কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে, যাতে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং আকাশীয় সংঘাতের বিস্তার রোধ করা যায়।



