হ্যাকসের স্রষ্টা ও অভিনেতা পল ডাউনস এবং তার সহ-অভিনেত্রী মেগ স্টাল্টার ২০২৬ সালের ক্রিটিক্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের লাল কার্পেটে উপস্থিত হয়ে একটি হাস্যকর ফ্যাশন স্টেটমেন্ট দিলেন। দুজনই টিমোথি শ্যালামেট এবং কাইলি জেনারের প্রিমিয়ার পার্টিতে পরা সমন্বিত মার্টি সুপ্রিম পোশাকের সম্পূর্ণ নকল পরিধান করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন। অনুষ্ঠানটি সান্তা মোনিকার বাকার হ্যাঙ্গারে অনুষ্ঠিত হয় এবং ই! ও ইউএসএ নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
দুই অভিনেতা উজ্জ্বল কমলা রঙের স্যুটে সজ্জিত ছিলেন, যা সাম্প্রতিক পিং-পং চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার পর সবার আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। শ্যালামেট ও জেনার যখন লাল কার্পেটে উপস্থিত হননি, তখন স্টাল্টার ও ডাউনসের এই নকল পোশাকটি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উভয়ের পোশাকের সাদৃশ্য এবং রঙের তীব্রতা ইভেন্টের ফ্যাশন টককে তীব্র করে তুলেছে।
ডাউনস উল্লেখ করেন যে হ্যাকসের পঞ্চম সিজন শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততা তাদের শপিংয়ের সময় কমিয়ে দিয়েছে, ফলে তারা বন্ধুদের কাছ থেকে পোশাক ধার নিতে বাধ্য হয়েছেন। শুটিং শিডিউলের তীব্রতা এবং সময়ের সীমাবদ্ধতা তাদেরকে সৃজনশীল সমাধান খুঁজতে প্ররোচিত করেছে। এই পরিস্থিতি তাদেরকে একটি মজার পারফরম্যান্সের সুযোগ দিয়েছে, যা দর্শকদের হাসি এনে দিয়েছে।
স্টাল্টারও একই রকম মন্তব্য করেন, তিনি বলেন যে একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকে তিনি একটি ড্রেস ধার নিয়েছেন, যা তার দেহে ঠিক ফিট হয়েছে। তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন যে কাইলি জেনার নিজেই তাকে এই লুকটি দিয়েছেন। এই মন্তব্যগুলো ইভেন্টের মেজাজকে হালকা করে তুলেছে এবং ফ্যাশন আলোচনায় নতুন রঙ যোগ করেছে।
ডাউনস আরও যোগ করেন যে একই সাইজের বন্ধুদের কাছ থেকে পোশাক ধার করা তাদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ ফিটিং সমস্যার ঝামেলা কমে যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে পোশাকটি তাদের দেহে একদম ঠিক বসে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি তাদেরকে দ্রুত প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছে।
টিমোথি শ্যালামেট ও কাইলি জেনার লাল কার্পেটে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের আসল মার্টি সুপ্রিম লুকটি দেখা যায়নি। তারা শোয়ের পরে উপস্থিত হয়ে আরও সাদামাটা পোশাক পরিধান করে। তাদের অনুপস্থিতি স্টাল্টার ও ডাউনসের নকল লুককে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
ইভেন্টটি সান্তা মোনিকার বাকার হ্যাঙ্গারে অনুষ্ঠিত হয় এবং ই! ও ইউএসএ নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। দর্শকরা অনলাইনে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি অনুসরণ করতে পারে। একই সঙ্গে, ৩১শে ক্রিটিক্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের চলচ্চিত্র ও টিভি নোমিনেশন তালিকাও রিয়েল-টাইমে আপডেট হচ্ছে।
ইভেন্টের সময় তারকারা এবং তাদের পোশাকের ছবি সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ব্যবহারকারীরা স্টাল্টার ও ডাউনসের নকল লুকে প্রশংসা ও হাস্যরসের মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ফ্যাশন ব্লগাররা এই পোশাককে “সৃজনশীল পুনর্ব্যবহার” হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেন। ইভেন্টের পরবর্তী সময়ে স্টাইল বিশ্লেষণ এবং মন্তব্যের ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
হ্যাকসের এই পারফরম্যান্সটি পুরস্কার মৌসুমের শুরুতে একটি হালকা মেজাজের সিগন্যাল হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে শিল্পী ও সেলিব্রিটি গুলো প্রায়ই ফ্যাশন দিয়ে নিজেদের প্রকাশ করে। তাদের এই রসিকতা পুরস্কার অনুষ্ঠানের গম্ভীর পরিবেশকে সামান্য শিথিল করেছে। একই সঙ্গে, এটি শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, বন্ধুদের কাছ থেকে পোশাক ধার করা একটি টেকসই পদ্ধতি, যা পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি সেলিব্রিটি দ্বারা গ্রহণ করা যেতে পারে। ইভেন্টের পর এই ধারণা নিয়ে আলোচনা বাড়তে থাকবে বলে আশা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, মেগ স্টাল্টার ও পল ডাউনসের রঙিন ও সৃজনশীল পোশাক নির্বাচন ক্রিটিক্স চয়েসের রেড কার্পেটে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিয়েছে। তাদের হাস্যকর মন্তব্য এবং বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করা লুকটি ইভেন্টের ফ্যাশন টককে সমৃদ্ধ করেছে। এই পারফরম্যান্সটি পুরস্কার মৌসুমের শুরুর দিকে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যাবে।



