18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবিএআরসির নতুন এলপিজি দাম ও সরবরাহ ঘাটতি স্থিতিশীল হতে ৭‑১০ দিন

বিএআরসির নতুন এলপিজি দাম ও সরবরাহ ঘাটতি স্থিতিশীল হতে ৭‑১০ দিন

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিএআরসি) রবিবার থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। পূর্বের নির্ধারিত দাম ১,২৫৩ টাকা, ফলে এক মাসে ৫৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে; গত মাসে এই বৃদ্ধি ৩৮ টাকা ছিল।

বিএআরসির এই মূল্যসীমা কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও, দেশের খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া কঠিন। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সিলিন্ডার না পাওয়া পর্যন্ত দামের পার্থক্য বেড়েছে। লালবাগের এক বাসিন্দা জানান, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোনো দোকানেই সিলিন্ডার না থাকায় সন্ধ্যায় তিনি ১,৯৫০ টাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হন। মোহাম্মদপুর ও মগবাজারের গ্রাহকরা যথাক্রমে ২,০০০ ও ২,০৫০ টাকায় সিলিন্ডার ক্রয় করেছেন।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ উল্লেখ করেন, সরবরাহ ঘাটতি পূরণে এবং বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি মূল্যের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে ২৯টি জাহাজের চলাচল বন্ধ হওয়ায় আমদানি প্রক্রিয়া ধীর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা গ্রাহকদের আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দেয়, যা তিনি ‘দুষ্টচক্র’ বলে সমালোচনা করেন।

লোয়াবের দাবি, অপারেটররা নির্ধারিত দামে বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে এই দামের অনুসরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জ্বালানি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১৩ লক্ষ টন এলপিজি চাহিদা রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে বেসরকারি কোম্পানিগুলো ১,২৭,০০০ টন এলপিজি আমদানি করেছে, পাশাপাশি কিছু পরিমাণে দেশীয় উৎপাদনও চালু রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, সরবরাহের ঘাটতি এবং উচ্চ মূল্যের চাপে খুচরা বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি আমদানি জাহাজের অবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং আন্তর্জাতিক দাম স্থিতিশীল থাকে, তবে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাম নিয়ন্ত্রিত স্তরে ফিরে আসা সম্ভব। তবে, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা এবং নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকলে, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এদিকে, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে বাজারের স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে। ত্বরিত আইনগত ব্যবস্থা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দামের অতিরিক্ত ওঠানামা রোধ করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল করা জরুরি।

সংক্ষেপে, বর্তমান এলপিজি মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহের ঘাটতি স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তবে নিয়ন্ত্রক ও শিল্প সংস্থার সমন্বিত কাজ এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন পরিস্থিতির উন্নতি হলে, পরবর্তী সপ্তাহে দাম স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রাহকদের জন্য মূল্যের স্বচ্ছতা এবং সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা ভবিষ্যতে বাজারের স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠি হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments